|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:০০ এএম
২৩৯ পঠিত
নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

রেহান আসিফ আসাদ প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়ার রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে টেলিযোগাযোগ ও তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক। কাজ করেছেন এটিঅ্যান্ডটি, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, এক্সপিডিয়া গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ পদে। প্রথম আলোর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংস্কার, নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা, সার্বভৌম এআই অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ রিফাত মোসলেম

বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতের দায়িত্ব নেওয়ার পর খাতকে কী অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন? এই খাতে কোন পাঁচটি বিষয়ে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন?

রেহান আসিফ আসাদ: ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। আমি দায়িত্ব নিয়েই শুনলাম, আইসিটি বিভাগ চার শর বেশি গেমস বানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে খবর নিয়ে জানলাম, সঠিক সংখ্যা আসলে ১০০। সেগুলোও কোনো কাজে লাগেনি। এই হলো অবস্থা। 

অগ্রাধিকারের কথা বললে প্রথমেই থাকবে আইন ও নীতিমালায় সংস্কার আনা। দ্বিতীয়ত, সংযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন। এরপর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা। চতুর্থত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি ও স্টার্টআপের বিকাশ। আর সর্বশেষ, দেশে ভোক্তা ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো।

আপনি আইনের কথা বললেন। সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধন নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও গণমাধ্যমে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই উদ্বেগ কীভাবে দূর হবে?

রেহান আসিফ আসাদ: সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা হচ্ছে, সেটি আমরা দেখছি। আমরা শুরু থেকেই সবার মতামত নিয়ে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছি। এবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চাই। আইনটি নিয়ে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে, তারপর আইনটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসতে হবে। তাই সবার উদ্বেগ ও মতামত আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আপনারা যে পরামর্শ দিচ্ছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে, তা আধা ডিজিটাল। সেবা পেতে এখনো অনলাইনে আবেদন করার পরেও মানুষকে সরকারি দপ্তরে যেতে হয়। ভোগান্তি হয়, ঘুষ দিতে হয়। এই জায়গায় কি পরিবর্তন আসবে?

রেহান আসিফ আসাদ: ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ক্লাসে আমাদের শেখানো হতো, এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা। কোনো সেবা শুধু অনলাইনে নিয়ে আসাই নয়, বরং সেই সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সহজ করা ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন। আমরা এখন ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ নিয়ে কাজ করছি। এতে নাগরিকের নাম, মা–বাবার নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, ঠিকানা ও একটি ইউনিক আইডিসহ ১২টি মৌলিক তথ্য থাকবে। এসব তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পাওয়া গেলে সরকারের যেসব দপ্তর সেবা দেয়, তারা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারবে। তাতে সেবা দেওয়ার সময় অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। নাগরিকের সেবা পাওয়া সহজ করাই আমাদের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের প্রধান অগ্রাধিকার।

আমাদের অগ্রাধিকার হলো টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটা ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক দল আসবে–যাবে; কিন্তু আমরা যদি এখনই প্রয়োজনীয় কাঠামো ও ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারি, তাহলে তা সব সময় কাজে লাগবে

কীভাবে সেটা বাস্তবায়ন হবে?

রেহান আসিফ আসাদ: ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের একটি বড় দুর্বলতা হলো, সরকারের কাছে থাকা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সমন্বয় করা গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হবে। এ জন্য আমরা ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) নিয়ে কাজ করছি। চেষ্টা করছি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জিওগ্রাফিক্যাল কোড ব্যবহার করে এমন একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করতে, যেখানে সরকারি প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি দেখা যাবে। কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কত খরচ হয়েছে, কাজ কত দূর এগিয়েছে, কোন এলাকায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছাচ্ছে—এসব তথ্য সেখানে থাকবে। এর মাধ্যমে সরকার উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারবে।

ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মানে শুধু অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা তৈরি করা নয়। নাগরিককে যেন একই তথ্য বারবার দিতে না হয়, এক দপ্তরের তথ্য যাচাই করতে অন্য দপ্তরে ঘুরতে না হয় এবং সরকারি সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় করতে না হয়। আমরা সেই পরিবর্তন আনতে চাই।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে নাগরিকদের বিপুল পরিমাণে তথ্য জমা হচ্ছে, কিন্তু বারবার তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি প্রথম আলো অনুসন্ধান করে দেখিয়েছে, সরকারের একজন মন্ত্রীও এই ঘটনার শিকার। এই বিষয়ে কী বলবেন?

রেহান আসিফ আসাদ: একটা দেশ ও তার নাগরিকের জন্য ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আমরা যত সংযোগপূর্ণ ও এআই-পরিচালিত বিশ্বের দিকে যাব, তথ্যের সুরক্ষা তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা সর্বোচ্চ মাত্রায় বাস্তবায়ন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কিছু ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে তা দূর করা হয়েছে। তবে সব জায়গায় আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাইবার সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমার তিনটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। জ্ঞান ও সক্ষমতা অনুযায়ী ডেটা নিরাপদ রাখা প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বললে ব্যাংক ও টেলিফোন খাত অন্যান্য খাতের তুলনায় কিছুটা নিরাপদ। ই-কমার্স বা বেসরকারি খাতের ডেটাবেজগুলোতে আমাদের আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। গত এপ্রিলে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে এবং সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি কাজ শুরু করেছে। সাইবার নিরাপত্তার অবকাঠামো, টুলস ও ফাউন্ডেশনাল মেকানিজম নিয়ে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। টেলিকম ব্যবসা খুব সহজ। কিন্তু সেবার মান নিয়ে গ্রাহক সন্তুষ্ট নন। টেলিযোগাযোগ খাতে করও অনেক বেশি। আবার কর কমালেও গ্রাহক তার সুফল পান না। দুটোর সমন্বয় করবেন কীভাবে?

রেহান আসিফ আসাদ: আমাদের এখানে জিডিপি-কর অনুপাত পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ের—৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা বড় উদ্বেগের বিষয়। একটি দেশের জন্য জিডিপি–করের অনুপাত অন্তত ১২ শতাংশ হওয়া উচিত। আমরা এমনভাবে কর কমানোর চেষ্টা করছি, যাতে দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব বাড়ে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে আগে শুল্ক ছিল ২৬–২৮ শতাংশ। আমরা তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছি। এতে শুরুতে রাজস্ব কমলেও গত তিন মাসে স্যামসাং, সিম্ফনি, ভিভো, অপো, টেকনো ও ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন বেড়েছে। আইফোন ছাড়া দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মোবাইল ফোনের চাহিদা এখন দেশে উৎপাদিত ফোন দিয়েই মেটানো হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রপ্তানি শুরুর লক্ষ্য নিয়েও আমরা কাজ করছি।

মোবাইল অপারেটরদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিম করও কমানো হয়েছে। টেলিটক ও বাংলালিংক তাদের নতুন প্যাকেজে সিমের দাম কমিয়েছে। অন্য অপারেটরদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। সরকার তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে; এখন অপারেটররা গ্রাহকদের কতটা সুবিধা দিচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রণালয় সরাসরি সেবার মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না, এটি বিটিআরসির এখতিয়ার। আমরা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলেছি। গ্রাহকেরা যাতে কর কমানোর প্রকৃত সুফল পান, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ফোনের দাম কিন্তু কমছে না। বিটিআরসি ২০২৯ সালের মধ্যে টু–জি সেবা বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। তাহলে যে ৬ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করে, তাদের কী হবে? 

রেহান আসিফ আসাদ: কাজটা কঠিন, সন্দেহ নেই। তবে শুরু থেকেই এটি আমার অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এবং থাকবে। দেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় ফোর–জি ফোন তৈরি করছে। এখন বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ, সিপিইউ ও জিপিইউর দাম বাড়ছে, সরবরাহেও সংকট রয়েছে। আগে যে চিপ তিন মাসে পাওয়া যেত, এখন তা পেতে ৬ থেকে ১২ মাস লাগছে। চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান রাতারাতি দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে দেশেই পিসিবি বোর্ডের নকশা ও উৎপাদন করতে পারলে চিপের বাইরের বাকি ৭০ শতাংশ খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

টু–জি ফোন দিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল দেওয়া সম্ভব নয়। ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের হাতেও ফোর–জি পৌঁছে দিতে হবে। তা না হলে তাঁরা এআই, ক্লাউড ও সফটওয়্যারভিত্তিক সেবার সুফল পাবেন না। কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও দেশের স্বার্থে এটি করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্কের মান, গ্রাহকসেবা ও বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে। এত দিনেও টেলিটক ঘুরে দাঁড়াতে পারল না কেন?

রেহান আসিফ আসাদ: টেলিটকের মাসিক আয় বাড়ছে। তবে টেলিটকের মূল সমস্যা নেটওয়ার্কের পরিধি ও মান নিয়ে। দেশের বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর সেল টাওয়ারের সংখ্যা ১৮–২০ হাজার। অন্যদিকে টেলিটকের রয়েছে ছয় হাজারের মতো। এই ব্যবধান নিয়ে টেলিটকের পক্ষে বেসরকারি অপারেটরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। টেলিটকের নতুন দুই হাজার সেল টাওয়ার স্থাপনের কাজ চলছে, যা আগামী জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ব্যবধান কমাতে নেটওয়ার্ক ভাগাভাগির মাধ্যমে কাভারেজ বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও নতুন টাওয়ার নির্মাণ, কোথাও নেটওয়ার্ক ভাগাভাগি, কোথাও স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপনি সার্বভৌম এআইয়ের কথা বলছেন। সেটা কী?

রেহান আসিফ আসাদ: সার্বভৌম এআইয়ের মূল কথা হলো দেশের নাগরিকদের তথ্য, ডেটা ও নাগরিক সেবার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। এআই প্রযুক্তির সুফল যেন সমাজের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে রিকশাচালকের সন্তান পর্যন্ত সবাই পায়, তা নিশ্চিত করা। এ জন্য দেশে নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রসেসিং চিপের মতো কিছু প্রযুক্তি বিদেশ থেকে আনতে হলেও সার্ভার, র্যাকসহ প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং অবকাঠামো দেশে স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের জাতীয় ডেটা সেন্টারে ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে ৮টি নোড ও ১৬টি সিআরএস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলা ভাষায় এআইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করে গবেষণা ও উন্নয়নের একটি কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও নেওয়া হবে। দ্রুত সময়ে এআই নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হবে।

এই সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের শেষে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

রেহান আসিফ আসাদ: আমাদের অগ্রাধিকার হলো টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটা ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক দল আসবে–যাবে; কিন্তু আমরা যদি এখনই প্রয়োজনীয় কাঠামো ও ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারি, তাহলে তা সব সময় কাজে লাগবে।

আমি বিশ্বাস করি, ডিভাইস, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদন আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনার একটি খাত। ১০ বছর আগেও ভিয়েতনামের ইলেকট্রনিকস রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। গত বছর তা বেড়ে ২১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনাম পারলে বাংলাদেশ কেন সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবে না?

সূত্র: প্রথম আলো