|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু এবং আমাদের দায়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
৩৫৩ পঠিত
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু এবং আমাদের দায়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
একটি শিশুর মৃত্যু মানে শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু। যে শিশুটির হাতে বই থাকার কথা, যে শিশুটি মাঠে খেলবে, বিদ্যালয়ে যাবে, বড় হয়ে পরিবার ও দেশের দায়িত্ব নেবে-সেই শিশুটিই যখন সড়কে প্রাণ হারায়, তখন প্রশ্ন ওঠে, এই মৃত্যুর দায় কার? চালকের, পরিবহনব্যবস্থার,...

একটি শিশুর মৃত্যু মানে শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু। যে শিশুটির হাতে বই থাকার কথা, যে শিশুটি মাঠে খেলবে, বিদ্যালয়ে যাবে, বড় হয়ে পরিবার ও দেশের দায়িত্ব নেবে-সেই শিশুটিই যখন সড়কে প্রাণ হারায়, তখন প্রশ্ন ওঠে, এই মৃত্যুর দায় কার? চালকের, পরিবহনব্যবস্থার, পরিবারের, নাকি রাষ্ট্রের? 

বাস্তবতা হলো, শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলা।

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই পরিসংখ্যান আমাদের শুধু উদ্বিগ্ন করে না, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চারটি শিশুর প্রাণ ঝরেছে সড়কে। প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি পরিবারের কান্না, অপূরণীয় ক্ষতি এবং অসংখ্য অনিশ্চয়তা।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুদের এই মৃত্যুর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। সড়ক নিরাপদ করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের আইন মানতে বাধ্য করা, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো তৈরি এবং শিশুদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

পরিসংখ্যানের আড়ালে যে বাস্তবতা

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ জন, অর্থাৎ ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ১৯৩ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে, রাস্তা পারাপার কিংবা সড়কে হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, শিশু শুধু রাস্তা পার হওয়ার সময়ই ঝুঁকিতে থাকে না; যানবাহনের যাত্রী কিংবা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবেও তাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শিশুদের উচ্চ মৃত্যুহার আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করা এবং শিশুদের যাত্রী হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।

পথচারী হিসেবে নিহত ২ হাজার ৮১২ শিশুর মধ্যে তিন চাকার বিভিন্ন যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ২৭১ জন। এর মধ্যে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন ও ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহন। এই সংখ্যা পথচারী হিসেবে নিহত শিশুর ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় মারা গেছে আরও ১ হাজার ১২৬ শিশু।

অর্থাৎ, পথচারী শিশুদের জন্য সড়ক কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তা এই তথ্যেই স্পষ্ট। ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত সড়ক, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা এবং যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল শিশুদের প্রতিদিনের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সবচেয়ে অনিরাপদ আমাদের গ্রামীণ সড়ক

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৭১৩ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গ্রামীণ সড়কের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এসব সড়ক অনেক ক্ষেত্রেই বসতবাড়ি, বিদ্যালয়, বাজার ও খেলার জায়গার পাশ দিয়ে চলে গেছে। কোথাও বাড়ির উঠান থেকে বের হলেই সড়ক, কোথাও বিদ্যালয়ের সামনে নেই নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা। অথচ এসব সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত, পথচারী পারাপার কিংবা ট্রাফিক নজরদারির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

শিশুদের খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় অনেক সময় তারা বাড়ির সামনের সড়কেই খেলতে বাধ্য হয়। একইভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ না থাকায় শিশুরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আবার বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় প্রাণ হারিয়েছে ৯৬২ শিশু। এই তথ্য আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে- একটি শিশু কি তার বিদ্যালয়ে যাওয়া কিংবা বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করার সময়ও নিরাপদ থাকবে না?

বিকেলেই কেন বেশি প্রাণহানি?

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেলে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ শিশু, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮ শিশু এবং দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ শিশু। এ ছাড়া রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি, খেলাধুলা, বাজারে যাতায়াত এবং কর্মব্যস্ত সড়কে যানবাহনের চাপ-এসব বিষয় শিশুদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কেবল সময়ের ভিত্তিতে কোনো একটি কারণকে দায়ী করা যথাযথ হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহনের গতি, সড়কের নকশা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বয়সভিত্তিক তথ্যেও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ, কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি একেবারে ছোট শিশুরাও সড়কে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স ও চলাচলের ধরন অনুযায়ী আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন।

দায় এড়ানোর সুযোগ নেই কারও

শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। অবশ্যই বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষ চালক, অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে দেখতে হবে, সড়কগুলো শিশুদের চলাচলের উপযোগী কি না এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তারা কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।

একটি বিদ্যালয়ের সামনে যদি গতিরোধক, সতর্কতামূলক চিহ্ন, নিরাপদ পারাপার ও প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবার চালকের লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও যানবাহনের ফিটনেস যাচাইয়ে দুর্বলতা থাকলে তার পরিণতি ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

পরিবারের দায়িত্বও কম নয়। শিশুদের বয়স অনুযায়ী সড়ক ব্যবহারের নিয়ম শেখানো, রাস্তা পারাপারের সময় সতর্ক থাকা এবং মোটরসাইকেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, শিশুর হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া তাকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিশুদের বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন করে তুলতে হবে।

সমাধান কোথায়?

প্রথমত, শিশুদের চলাচল বেশি-এমন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়, হাসপাতাল, বাজার, আবাসিক এলাকা ও খেলার মাঠের আশপাশে উপযুক্ত গতিসীমা, দৃশ্যমান সতর্কতামূলক চিহ্ন, নিরাপদ ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গতিরোধকের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরযান চালানো, লাইসেন্সবিহীন চালক, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় নয়, অপরাধ পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

তৃতীয়ত, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ককে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বাইরে রাখা যাবে না। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের সময় স্থানীয় মানুষের চলাচল, বিদ্যালয়ের অবস্থান, বসতবাড়ি এবং বাজারের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফুটপাত, নিরাপদ পারাপার, আলোকসজ্জা ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চতুর্থত, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা চালু করতে হবে। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক নিরাপদ যাতায়াত পরিকল্পনা থাকতে পারে। শিশুদের রাস্তা পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার এবং যানবাহনে যাতায়াতের নিয়ম হাতে-কলমে শেখাতে হবে।

পঞ্চমত, দুর্ঘটনার পর আহত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা, শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো পরিবার শিশুর চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকারি সহায়তা ও কার্যকর তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

ষষ্ঠত, সড়ক দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কোথায়, কখন, কী ধরনের যানবাহনের কারণে এবং কোন পরিস্থিতিতে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে-এসব তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুর নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, অধিকার

শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। তবে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার অর্থ দায় এড়িয়ে যাওয়া নয়। প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সড়কে একটি শিশুর মৃত্যু ঘটার পর শোক প্রকাশ, তদন্তের আশ্বাস কিংবা সাময়িক অভিযানই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আগে থেকেই চিহ্নিত হবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীরা জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা সড়কের বিপদ সম্পর্কে বড়দের মতো সচেতন নয়। তাদের ভুল করার সম্ভাবনাও বেশি। তাই সড়কব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিশুর সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ না হয়।

সাত হাজার ৯৬৩টি শিশুমৃত্যুর পরিসংখ্যানকে কেবল একটি প্রতিবেদন কিংবা সংবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা, আমাদের ব্যর্থতার দলিল এবং পরিবর্তনের আহ্বান। প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য। তাদের নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাওয়া, বাড়ি ফেরা ও খেলাধুলা করার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

আজ যদি আমরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে আগামীকালও কোনো না কোনো পরিবারকে সন্তানের লাশ নিয়ে ফিরতে হবে। সেই দায় আমরা কেউ এড়াতে পারব না। তাই এখনই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে-যাতে সড়ক আর কোনো শিশুর স্বপ্নভঙ্গের কারণ না হয়, বরং নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে।

লেখক: রফিক সরকার, গণমাধ্যম কর্মী

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স