|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

উপজেলা থেকে ইউনিয়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় সংস্কার পরিকল্পনা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
২৭১ পঠিত
উপজেলা থেকে ইউনিয়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় সংস্কার পরিকল্পনা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে উপজেলা পর্যায়ের ৫০৩টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও হাব প্রতিষ্ঠা এবং নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আট বিভাগে পূর্ণাঙ...
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে উপজেলা পর্যায়ের ৫০৩টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও হাব প্রতিষ্ঠা এবং নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আট বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন, আধুনিক রোগনির্ণয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত অবহেলায় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার তাই বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতাল ৫১, ১০১, ১২০, ১৩২ ও ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ৪৪৩টি উপজেলায় সমন্বিত বহুতল সেবাভবন এবং ১৫টি উপজেলায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের আবাসন সুবিধা নির্মাণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকার ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কোনো উপজেলা ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এ বাস্তবতায় দেশের ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উন্নীত হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), করোনারি কেয়ার, ওয়ান-স্টপ জরুরি সেবা, মেডিসিন, সার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যানসার স্ক্রিনিং, ফিজিওথেরাপি, স্ট্রোক ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা এবং আধুনিক রোগনির্ণয় সুবিধাও থাকবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি স্বাস্থ্যসেবা হাব এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। তারা অন্তত দুই মাসে একবার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরামর্শ, রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করবেন। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার পাশাপাশি জটিল রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাবেন। ড. মুহিত বলেন, ‘আমরা শুধু মানুষের দোরগোড়ায় নয়, বরং তাদের ঘরের ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।’ স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবল সংকট কাটাতে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, প্যারামেডিকস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের তুলনায় বাংলাদেশে নার্সের সংখ্যা মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরও ঘাটতি রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারের প্রথম আট মাসে কয়েক হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। মাতৃস্বাস্থ্যসেবা জোরদার ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আরও এক লাখ যুক্ত করে মোট সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজারে উন্নীত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসা ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পাঁচটি ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (আইএনএমএএস) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত ব্যয় ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। দেশের ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে ১৭টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর এবং প্রথমবারের মতো পাঁচটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি মেশিন কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরে সীমাবদ্ধ থাকায় রোগী ও তাদের পরিবারকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ সংকট কমাতে রোগীদের বাড়ির কাছাকাছি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাড়াতে সাভারে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করছে সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি এটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মূলত ক্লিনিক্যাল সেবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না। অথচ পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিংবা সিভিল সার্জন হিসেবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। নতুন ইনস্টিটিউটে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে রোগনির্ণয় সুবিধার ঘাটতি দূর করতে দেশব্যাপী চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে সরকার। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অকেজো যন্ত্রপাতি এবং এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নে শিগগিরই ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করা হবে। এর আওতায় উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ ও উন্নয়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হবে। বিশেষ করে সচল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে রোগীদের রোগনির্ণয়ের জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে না হয়। সূত্র: বাসস

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স