|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৭ নভেম্বরের চেতনায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় বাংলাদেশ: ভূমিমন্ত্রী 

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
৪১৬ পঠিত
৭ নভেম্বরের চেতনায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় বাংলাদেশ: ভূমিমন্ত্রী 
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেই জাতি, যারা ব্রিটিশদের কাছে মাথা নত করিনি, মোঘলদের কাছেও করিনি। আমরা সব সময় মাথা উঁচু করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা সমমর্য...

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেই জাতি, যারা ব্রিটিশদের কাছে মাথা নত করিনি, মোঘলদের কাছেও করিনি। আমরা সব সময় মাথা উঁচু করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বাঁচতে চাই।’

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনটি আমার মতো অনেকের কাছেই বিশেষ আবেগ ও স্মৃতির। প্রায় ৪০ বছর আগে আমি যখন রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সম্পাদক ছিলাম, তখন কলেজে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর তৎপরতা দেখা দিয়েছিল। সে সময় দেশপ্রেমিক ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মিছিল ও পাল্টা মিছিল করেছিলাম। কলেজের রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রনেতা হিসেবে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল।

নিজের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাটে রিক্রুট ক্যাম্পে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহীতে ফিরে আসি। এই রাজশাহীতেই আমার জন্ম বেড়ে ওঠা। এই মাটির সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরও আমাদের মধ্যে নানা ধরনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ও বিদেশি আধিপত্যের আশঙ্কা ছিল। ধীরে ধীরে আমরা উপলব্ধি করেছি, প্রকৃত স্বাধীনতা মানে নিজের মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। বাংলাদেশের মানুষকে সেই আত্মমর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মিনু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাকে মনে রাখতে হবে। তিনি কোনো স্বাভাবিক ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে নয়, বরং দেশের ইতিহাসের নানা কঠিন পরীক্ষা ও ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জাতীয় নেতৃত্বের জায়গায় এসেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা ও জাতীয় পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার নতুন প্রত্যয় তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের গৌরবময় ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের সাহসিকতা এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা এগিয়েছে। সেদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া অনেকের স্মৃতিও আজকের দিনে তার মনে পড়ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং তাদের রেখে যাওয়া রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় আজ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপ শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আলোচিত হচ্ছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে মিনু বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য এবং প্রতিকূলতা ও নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, তার নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া কাজগুলো সম্পন্ন হবে এবং বাংলাদেশ একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দিবসের সফলতা কামনা করেন। পরে তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, শহীদ জিয়া জিন্দাবাদ ও খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স