মার্কিন শুল্ক চুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে: সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর
গণমাধ্যম ডেক্স

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) এবং এই চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফল বাংলাদেশকে নিজেদেরই সামলাতে হবে। ফলে আমরা চুক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছি, তা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চুক্তিতে কী আছে এবং এর অর্থ কী—তা নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত।’
আজ শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএইএ) সভাপতি ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।
অনুষ্ঠানে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা চুক্তির সুযোগগুলো কী এবং ঝুঁকি বা ফাঁদগুলো কী, তা বুঝতে পারি, ততক্ষণ এটির সুফল আমরা নিতে পারব না। ফলে আমাদের আরও খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। আমি মনে করি না এটি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় হওয়া উচিত। এআরটিতে কী আছে, এটি আমাদের কীভাবে প্রভাবিত করে, এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এবং সুযোগগুলো কোথায়, তা নিয়ে আমাদের কথা বলা দরকার।’
রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ইউএস ট্রেড শোর শেষ দিনে ‘বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যৌথভাবে এ ট্রেড শো আয়োজন করেছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ, কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ।
মার্কিন শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়ন ও স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ— এই দুটি বিষয়কে একে অপরের পরিপূরক বলে মনে করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এআরটির (মার্কিন শুল্ক চুক্তি) সুবিধা নিতে চাই, তবে আমাদের কমপ্লায়েন্ট হতে হবে, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটও ঠিক তেমন হবে।’
সেমিনারে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, একবার যদি কোনো দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাত্রার একটি চুক্তি হয়ে যায়, তবে সেটি অন্যান্য দেশের জন্যও একটি বেঞ্চমার্ক বা অনুসরণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়—তারাও তখন একই ধরনের সুযোগ বা অগ্রাধিকার দাবি করবে। তাই, চুক্তির বিষয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা উচিত।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর আরও বলেন, ‘মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি আমাদের প্রবৃদ্ধির একটি বড় চালিকা শক্তি হতে পারে। চুক্তিটি একদিকে দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে “কমপ্লায়েন্স” এবং “ট্রেসেবিলিটি”র (সরবরাহ শৃঙ্খলের সন্ধানযোগ্যতা) জন্য উচ্চ খরচের বিষয়ও রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত হতে হবে।’
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ককাঠামো ভালোভাবে বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বলে দেয় যে আপনার পণ্যে সামান্য কোনো পরিবর্তন এনে শুল্ক কীভাবে ৩৭ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়।
সেমিনারে শাশা ডেনিমসের এমডি শামস মাহমুদ বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে বাণিজ্যচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু চুক্তির ফলে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা উপকৃত হবেন, সে বিষয়ে আমরা খুব কমই আলোচনা করছি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কোনো কথা বলছে না।’
অবশ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অনেক মার্কিন ক্রেতা এখন বাংলাদেশে আসছেন বলে জানান শামস মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এসব ক্রেতা ঐতিহ্যগতভাবে এখানে আসতেন না। এমনকি ইউএস কটনের তৈরি কাপড় রপ্তানি করছে পাকিস্তানে। সেই কাপড়ে তৈরি পোশাক পাকিস্তান থেকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে আমাদের মতো সরবরাহকারীদের জন্য নতুন ধরনের পথ খুলে গেছে।’
কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি সেক্রেটারি ব্রুক রলিন্স ‘গ্রেট আমেরিকান কটন প্ল্যান’-এর অংশ হিসেবে বিশেষভাবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে পোশাকে ইউএস কটন ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: প্রথম আলো