ওসির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৩ এএম
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আনা হয়েছে সোহেল নামে তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধেও। এ ঘটনায় জিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী।...
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আনা হয়েছে সোহেল নামে তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধেও। এ ঘটনায় জিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, অভিযোগকারী তরুণী গত ২৪ সেপ্টেম্বর জিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। লিখিত অভিযোগে তরুণী দাবি করেন, প্রায় এক বছর পাঁচ মাস আগে ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকাকালে একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান তিনি। ওই সময় ওসি তার মোবাইল নম্বর নেন। পরে ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় ইফতেখার নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্পর্কের একপর্যায়ে ইফতেখার তার বন্ধু সোহেলের বাসায় তাকে নিয়ে যেতেন। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলেও দাবি করেন ওই তরুণী। এ কাজে সোহেল সহযোগিতা করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ইফতেখার তাকে আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। যদিও পরে তিনি বিয়ে করতেই অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে ইফতেখারের বাবা তার পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদ করায় ইফতেখার তাকে গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে দাবি করেন ওই তরুণী।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ইফতেখারের নির্দেশে তার বন্ধু সোহেল ও কথিত এক আত্মীয় তরুণীর বাসায় যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই ফোনে সংরক্ষিত ইফতেখারের সঙ্গে কথোপকথনের কল রেকর্ড ও বার্তা মুছে ফেলা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন জানিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন ওই তরুণী।
অভিযোগকারী তরুণী বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। তাদের ভয়ে বাসা থেকে বের হতেও পারছি না। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: কালবেলা