|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সালমান খানের ৪১ বার ফোন! গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিতে থমকে যায় বিবেকের ক্যারিয়ার

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৪৫ এএম
৪০৩ পঠিত
সালমান খানের ৪১ বার ফোন! গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিতে থমকে যায় বিবেকের ক্যারিয়ার
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল রেলার্নে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিবেক আবারও বলিউডের ‘লবিবাজি’ নিয়ে কথা বলেছেন।

সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও কেন হারিয়ে গেলেন এক সম্ভাবনাময় অভিনেতা? সালমান খানের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ, সংবাদ সম্মেলনে ৪১টি ফোনকলের অভিযোগ, একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ পড়া—বিবেক ওবেরয়ের ক্যারিয়ারের গল্পে রয়েছে বলিউডের ক্ষমতার সমীকরণ, বিতর্ক ও ঘুরে দাঁড়ানোর অধ্যায়।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল রেলার্নে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিবেক আবারও বলিউডের ‘লবিবাজি’ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁকে একঘরে করে দিয়েছিল। আগে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কয়েকটি সিনেমা থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিবেকের আরও দাবি, যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, তাঁদেরও কেউ কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকি পেয়েছিলেন। এমন কথাও বলা হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে সিনেমা করলে তাঁদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে। এসব ঘটনার কারণে জীবনের একটি কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে।

একসময় ছিলেন বলিউডের নতুন সেনসেশন
২০০২ সালে রাম গোপাল ভার্মার কোম্পানি দিয়ে বলিউডে অভিষেক বিবেকের। প্রথম ছবিতেই চন্দু চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন। গ্যাংস্টার চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। একই বছর মুক্তি পায় ‘সাথিয়া’। রোমান্টিক নায়ক হিসেবেও দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পান তিনি।

‘কোম্পানি’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিবেক ওবেরয়। আইএমডিবি

এরপর ‘রোড’, ‘দম’, ‘যুবা’, ‘মাস্তি’—একাধিক ছবিতে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়ান। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ছবিতে মায়া ডোলাসের চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন।
একদিকে সমালোচকদের প্রশংসা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক সাফল্য—সব মিলিয়ে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় তারকা হওয়ার প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পথেই আসে বড় ধাক্কা।

৪১টি ফোনকল, যে সংবাদ সম্মেলন বদলে দিয়েছিল সবকিছু
২০০৩ সালের ১ এপ্রিল। মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে সবাইকে চমকে দেন বিবেক ওবেরয়। অভিযোগ করেন, সালমান খান তাঁকে এক রাতে ৪১ বার ফোন করেছিলেন। ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তখন ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে বিবেকের সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে জোর আলোচনা চলছিল। সালমানের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর বিবেকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার খবর প্রকাশিত হচ্ছিল। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা থেকেই দুই অভিনেতার বিরোধের সূত্রপাত বলে সে সময় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
বিবেকের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে সালমান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। ফলে ঘটনাটি দুই অভিনেতার বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয় হয়ে ওঠে।

সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়। কোলাজ

পরবর্তী সময়ে বিবেক নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন, ওই সংবাদ সম্মেলন তাঁর পেশাগত জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু তখন পরিস্থিতি অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

সালমানের সঙ্গে বিরোধের পর কী বদলে গেল?
বিবেকের দাবি, সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই বলিউডে তাঁর জন্য কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতাশালী মহল থেকে যেন তাঁর বিরুদ্ধে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল।
বিবেকের ভাষায়, পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এমন একজন অভিনেতা, যার সঙ্গে কাজ করতে অনেকেই চাইতেন না। এমনকি ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ ব্যবসাসফল হওয়ার পরও প্রায় এক বছর বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

পুরস্কার পেয়েও ১৪ মাস কাজ পাননি
২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিবেক জানান, ২০০৭ সালে ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ মুক্তির পর তিনি ভেবেছিলেন, আরও ভালো কাজের প্রস্তাব পাবেন। ছবির সাফল্য, অভিনয়ের প্রশংসা এবং পুরস্কার পাওয়ার পরও প্রত্যাশিত কাজ আসেনি।

বিবেকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মাস বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছিল। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করবেন না। ব্যবসায়িক উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দেন। তাঁর বক্তব্য, নিজের জীবিকার নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে রাখতে চাননি।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির অভিযোগ
২০২৬ সালের নতুন সাক্ষাৎকারে বিবেক যে বিষয়টি সামনে এনেছেন, তা আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, শুধু প্রযোজক বা পরিচালকের অনীহাই নয়, তাঁকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও নাকি হুমকি পেয়েছিলেন।
বিবেকের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করলে তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও অনেকে পিছিয়ে যান।
এই বক্তব্য বলিউডের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পুরোনো সম্পর্কের বিতর্ককেও নতুন করে সামনে এনেছে।

অন্ধকার সময় থেকে ব্যবসায় নতুন পরিচয়
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায় মনোযোগী হন বিবেক। রিয়েল এস্টেট, বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠান সলিটেরিও ল্যাব-গ্রোন হীরার গয়না নিয়ে কাজ করে।
২০২৪ সালের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অভিনয় তাঁর ভালোবাসা, কিন্তু জীবিকার জন্য আর কোনো লবির ওপর নির্ভর করতে চান না। ব্যবসা তাঁকে সেই স্বাধীনতা দিয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো