|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পান, জর্দা, চুনের কৌটা জব্দ করে ধ্বংস, প্রশংসিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৭ এএম
৩১২ পঠিত
পান, জর্দা, চুনের কৌটা জব্দ করে ধ্বংস, প্রশংসিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
হাসপাতাল মানেই অসুস্থ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার আশ্রয়স্থল। তবে যেখানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকার কথা সবার আগে, সেখানের মেঝে, সিঁড়ি, দেয়াল কিংবা বারান্দায় যদি ছড়িয়ে থাকে পানের পিক, তাহলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশই হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ...
হাসপাতাল মানেই অসুস্থ মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার আশ্রয়স্থল। তবে যেখানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকার কথা সবার আগে, সেখানের মেঝে, সিঁড়ি, দেয়াল কিংবা বারান্দায় যদি ছড়িয়ে থাকে পানের পিক, তাহলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশই হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ভেতরে পান খাওয়া ও যত্রতত্র পানের পিক ফেলে পরিবেশ নোংরা করা বন্ধ করতে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এর অংশ হিসেবে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পান, জর্দা ও চুনের কৌটা জব্দ করে সেগুলো নষ্ট করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালটি আটতলা বিশিষ্ট। প্রতিদিন জেলার ৯টি উপজেলা ছাড়াও জেলার বাইরের আশপাশের এলাকা থেকেও শত শত রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ভর্তি থাকেন অসংখ্য রোগী। তাদের সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করেন স্বজনরাও। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বারান্দা ও সিঁড়িতে পানের পিক ফেলার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে নোংরা হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড ও সিঁড়ির বিভিন্ন স্থানে পানের পিকের দাগ চোখে পড়ে। এতে শুধু হাসপাতালের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছিল না, বিঘ্নিত হচ্ছিল পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসার পরিবেশও। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি অসন্তোষ ও উষ্মা প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে পানের পিক ফেলা বন্ধেও নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর সকালে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যতিক্রমধর্মী অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মমিন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে থাকা পান, পানের ব্যাগ, জর্দা ও চুনের কৌটা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো হাসপাতালের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে একত্র করে নষ্ট করে দেওয়া হয়। অভিযানটি ছিল গতানুগতিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। কারণ, শুধু হাসপাতালের মেঝে কিংবা দেয়াল পরিষ্কার করেই দায়িত্ব শেষ করেনি কর্তৃপক্ষ। বরং হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা হওয়ার অন্যতম কারণ চিহ্নিত করে সরাসরি সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে পান-জর্দা সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে পান খাওয়া এবং যত্রতত্র পানের পিক ফেলা অন্যদের জন্যও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে। ৭ নভেম্বর হাসপাতালের এই ব্যতিক্রমী অভিযানের একটি ভিডিও কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মমিন উদ্দিন চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের একটি অংশ পান খেয়ে যত্রতত্র পানের পিক ফেলেন। এতে হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড এবং আটতলা ভবনের বিভিন্ন সিঁড়ি নোংরা হয়ে পড়েছে। বারবার পরিষ্কার করার পরও একইভাবে পানের পিক ফেলার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৩ নভেম্বর ব্যতিক্রমী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে যাদের কাছে পান, জর্দা ও চুনের কৌটা পাওয়া গেছে, সেগুলো সংগ্রহ করে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মূলত শাস্তি দেওয়া নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে কেউ যেন হাসপাতালে পান খেয়ে যেখানে-সেখানে পানের পিক না ফেলেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে পানের দোকান স্থাপনকেও অপরিচ্ছন্নতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আরএমও জানান, হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতরে কয়েকজন দোকানদার পানের দোকান বসিয়েছিলেন। সেখান থেকে রোগী ও তাদের স্বজনরা পান কিনে হাসপাতালের ভেতরে বসেই খেতেন। পরে যত্রতত্র পানের পিক ফেলে পরিবেশ নোংরা করতেন। এ কারণে হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে পানের দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হয়েছে। দোকানদারদেরকে হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু অভিযান পরিচালনা করেই থেমে থাকতে চায় না কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শিগগিরই বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক স্টিকার তৈরি করা হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব স্টিকার লাগানো হবে, যাতে রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে পান খাওয়া এবং পানের পিক ফেলার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হন। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স