|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

নাইট ক্লাবে শুনতে হয়েছিল বাজে কথা, তিনিই এখন আলোচিত গায়িকা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
২৭৮ পঠিত
নাইট ক্লাবে শুনতে হয়েছিল বাজে কথা, তিনিই এখন আলোচিত গায়িকা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সংগীতজীবনের পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়েও মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি আগের মতোই প্রাণবন্ত। তবে এই সাফল্যের গল্প মোটেও মসৃণ ছিল না।

কপালে বড় টিপ, খোঁপায় ফুল, হাতে চুড়ি, পরনে রঙিন শাড়ি। মঞ্চে উঠেই যখন তিনি গান ধরেন, তখন বয়সের হিসাব ভুলে নাচতে শুরু করেন দর্শক। তাঁর কণ্ঠ অন্যদের মতো নয়। ভারী, গভীর, খানিকটা কর্কশ; অথচ সেই কণ্ঠেই আছে অদ্ভুত এক জাদু। কখনো ‘হরি ওম হরি’, কখনো ‘রাম্বা হো’, আবার কখনো ‘কোই ইয়াহাঁ নাচে নাচে’ গানের সঙ্গে সঙ্গে মাতিয়ে তোলেন পুরো মঞ্চ। তিনি উষা উত্থুপ। ভারতীয় সংগীতের এমন এক নাম, যাঁকে আলাদা করে চেনার জন্য গানের প্রথম কয়েকটি সুরই যথেষ্ট।

আজ ৮ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া উষা উত্থুপের বয়স এখন ৭৯ বছর। সংগীতজীবনের পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়েও মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি আগের মতোই প্রাণবন্ত। তবে এই সাফল্যের গল্প মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীত শিক্ষকের প্রত্যাখ্যান, কণ্ঠ নিয়ে সমালোচনা, নাইট ক্লাবে দর্শকের অবজ্ঞা, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া—সবকিছু পেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। এমনকি যে পোশাক ও সাজসজ্জা একসময় তাঁকে নিয়ে উপহাসের কারণ হয়েছিল, তা-ই পরে হয়ে উঠেছে তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

গানের ক্লাস থেকেই বাদ পড়েছিলেন
উষার জন্ম মুম্বাইয়ের এক দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারে। তাঁর পরিবারে সংগীতের আবহ ছিল, কিন্তু ছোটবেলায় গানের শিক্ষকও তাঁকে ভবিষ্যতের বড় শিল্পী হিসেবে ভাবেননি। স্কুলের সংগীত শিক্ষক মনে করতেন, উষার কণ্ঠস্বর গানের দলের সঙ্গে মানানসই নয়। একপর্যায়ে তাঁকে কোরাসের ক্লাস থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। গানের ক্লাসে জায়গা না পেয়ে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল ত্রিভুজাকৃতির বাদ্যযন্ত্র ও ক্ল্যাপার বাজানোর দায়িত্ব।
অথচ সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। রেডিও শুনে শুনে নানা ধরনের গান আয়ত্ত করতেন। পাশ্চাত্য সংগীত, জ্যাজ, পপ—সবকিছুর প্রতিই ছিল তাঁর আকর্ষণ। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মরণ করেছিলেন, সংগীত শিক্ষক তাঁকে গানের উপযুক্ত মনে না করলেও একসময় সেই শিক্ষকই তাঁর পরিবেশনা দেখতে দর্শকাসনে বসেছিলেন। দুজনের চোখেই সেদিন এসেছিল আনন্দাশ্রু।

উষার জীবনের এই ঘটনা যেন তাঁর পুরো ক্যারিয়ারের প্রতীক। যাঁরা প্রথমে তাঁকে গ্রহণ করেননি, সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেকেই তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

নাইট ক্লাব থেকে সংগীতজগতে যাত্রা

১৯৬৯ সালে চেন্নাইয়ের ‘নাইন জেমস’ নামের একটি নাইট ক্লাবে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন উষা। সেখানকার পরিবেশনা এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে কর্তৃপক্ষ তাঁকে আরও এক সপ্তাহ গান গাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এরপর সাভেরা হোটেল, মুম্বাইয়ের রিটজ হোটেল হয়ে তাঁর গানের যাত্রা পৌঁছে যায় কলকাতায়।

কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের বিখ্যাত ট্রিঙ্কাসে গান গাওয়া তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময় নাইট ক্লাবে গান গাওয়া ছিল বিশেষ একধরনের সামাজিক পরিসরের অংশ। সেখানে সাধারণত পাশ্চাত্য পোশাক পরা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিল্পীদেরই বেশি দেখা যেত। দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের মেয়ে উষা সেখানে হাজির হলেন শাড়ি পরে। কণ্ঠেও ছিল না প্রচলিত গায়িকাদের মতো মিষ্টতা।

প্রথম দিকে তাঁকে দেখে অনেকেই অবাক হতেন। কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করতেন, শাড়ি পরা এই নারী আদৌ নাইট ক্লাবের মঞ্চ মাতাতে পারবেন কি না। উষা নিজেই এক অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, পার্ক স্ট্রিটে তাঁকে দেখে সামনের সারির দর্শকদের কেউ কেউ বলেছিলেন, ‘এই আম্মা কী গাইবে!’

কিন্তু গান শুরু করার পর সেই সংশয় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাঁর কণ্ঠ ও পরিবেশনার ধরন দর্শকদের আকৃষ্ট করতে শুরু করে। একসময় তিনিই হয়ে ওঠেন নাইট ক্লাবের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উষা জানিয়েছিলেন, একসময় মাসে দেড় হাজার রুপি পারিশ্রমিক পেতেন তিনি। সেই সময়ে যা ছিল নাইট ক্লাবের গায়িকা হিসেবে উল্লেখযোগ্য আয়।

কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও হয়ে ওঠে গভীর। এই শহর শুধু তাঁকে জনপ্রিয়তা দেয়নি, দিয়েছে একধরনের সাংস্কৃতিক পরিচয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতাকে নিজের কর্মভূমি ও প্রিয় শহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

উষা উত্থুপ। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘দম মারো দম’ থেকে বলিউডের দরজা
নাইট ক্লাবে গান গাইতে গাইতেই চলচ্চিত্রের সংগীতজগতের মানুষের নজরে আসেন উষা। ১৯৭০ সালে জেমস আইভরি ও ইসমাইল মার্চেন্টের ‘বম্বে টকিজ’ সিনেমায় শঙ্কর-জয়কিষণের সুরে ইংরেজি গান গেয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ১৯৭১ সালে দেব আনন্দের ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণ’ সিনেমায় গান গাওয়ার সুযোগ পান।
তবে বলিউডে তাঁর প্রবেশের পেছনেও ছিল একটি হতাশার গল্প। ‘দম মারো দম’ গানটি প্রথমে তাঁকে গাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গানটি গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। গানটি হয়ে ওঠে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় গান। উষার ভাগ্যে জোটে না সেই সুযোগ।

তবে হতাশ হয়ে থেমে থাকেননি তিনি। বরং ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণ’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে দেয়। পরে একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘হরি ওম হরি’, ‘শান সে’, ‘ওয়ান টু চা চা চা’, ‘রাম্বা হো’, ‘কোই ইয়াহাঁ নাচে নাচে’-এসব গান তাঁকে নিয়ে যায় ভারতীয় পপসংগীতের প্রথম সারিতে।
বিশেষ করে আশির দশকে ডিস্কো ও পপসংগীতের জনপ্রিয়তার সময় তাঁর কণ্ঠ হয়ে ওঠে আলাদা আকর্ষণ। বাপ্পি লাহিড়ীর সুরেও একাধিক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠের শক্তি ও পরিবেশনার ভঙ্গি গানগুলোকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। প্রচলিত প্লেব্যাক গায়িকাদের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা কঠিন ছিল। কারণ, তিনি শুধু গান গাইতেন না, গানকে মঞ্চের অভিজ্ঞতায় পরিণত করতেন।

কণ্ঠ নিয়ে সমালোচনা, পরিচয় নিয়ে লড়াই
উষা উত্থুপের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর কণ্ঠস্বর। অথচ ক্যারিয়ারের শুরুতে এই কণ্ঠই ছিল সমালোচনার কারণ। প্রচলিত ধারণায় নারী কণ্ঠ মানেই কোমল, মিষ্টি ও সুরেলা-উষার কণ্ঠ সেই ছকের বাইরে। ফলে সংগীতজগতের অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না, তাঁকে কোন ধরনের গানে ব্যবহার করা যায়।

২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, শুরুর দিকে মানুষ বুঝতে পারত না তাঁর কণ্ঠ কোন জায়গায় মানানসই। বিষয়টি সহজ ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি নিজের জায়গা খুঁজে নিয়েছেন। পেছনে ফিরে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়, প্রথম দিকের প্রত্যাখ্যানগুলোকে নিজের পরিচয়ের নির্ধারক হতে দেননি বলেই আজ এত দূর আসতে পেরেছেন।

নিজেকে তিনি কখনো প্রচলিত অর্থে ভালো বা খারাপ গায়িকা হিসেবে বিচার করতে চাননি। তাঁর ভাষায়, তিনি শতভাগ নিজস্ব ধারার শিল্পী। এই মৌলিকত্বই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

উষা উত্থুপ। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

আরেকটি বিষয় তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে—তাঁর সাজসজ্জা। কাঞ্জিভরম শাড়ি, বড় টিপ, ফুলের মালা ও চুড়ি তাঁর মঞ্চের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ এই সাজ কোনো পরিকল্পিত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট ছিল না। দক্ষিণ ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠায় শাড়ি পরা ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। মঞ্চেও সেই পরিচয় ধরে রেখেছেন তিনি। পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকের এই মেলবন্ধনই একসময় হয়ে ওঠে তাঁর স্বাক্ষর।

গান গাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা, রাজনীতির সঙ্গে সংঘাত
উষার জীবনে সবচেয়ে অস্বস্তিকর অধ্যায়গুলোর একটি রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘটনা। কলকাতায় তাঁর জনপ্রিয়তা যখন বাড়ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজনীতিক যতীন চক্রবর্তীর উদ্যোগে তাঁকে গান গাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এই শিল্পী।

২০২২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উষা বলেছিলেন, তিনি কখনো অশালীন কিছু করেননি। তা হলে কেন তাঁকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটি তাঁর কাছেও পরিষ্কার ছিল না। তাঁর ভাষায়, ওই সময় আনন্দবাজার পত্রিকা তাঁকে সমর্থন না করলে হয়তো তাঁর পেশাজীবনই থেমে যেতে পারত।
ঘটনাটি তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল। কারণ, নাইট ক্লাবে গান গাইলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও মঞ্চের উপস্থাপনায় তিনি বরাবরই নিজের স্বাভাবিক পরিচয় বজায় রেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না উষা। বিতর্কের চেয়ে গান দিয়েই মানুষের মনে বেঁচে থাকতে চান তিনি।

বাংলা গান, কলকাতা ও বাংলাদেশের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক
উষা উত্থুপের সংগীতজীবনের বিশেষ একটি অংশজুড়ে রয়েছে বাংলা গান। কলকাতায় দীর্ঘদিনের বসবাস ও কাজের সুবাদে বাংলা ভাষা এবং এই অঞ্চলের সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর হয়েছে। বাংলা গান গাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি শুধু অতিথি শিল্পী হয়ে থাকেননি; বরং নিজের কণ্ঠে তৈরি করেছেন আলাদা শ্রোতাগোষ্ঠী।
১৯৭৮ সালে ‘আহা তুমি সুন্দরী কত কলকাতা’ গানটি রেকর্ড করেন তিনি। গানটি তাঁর বাংলা সংগীতজীবনের অন্যতম পরিচিত কাজ। কলকাতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে এই গান। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয় একই নামের তাঁর বাংলা অ্যালবাম। সেখানে ‘আই লাভ ইউ’, ‘এ চাঁদিনী রাতে’, ‘মনে আছে ঠিক তো’সহ বেশ কিছু গান ছিল।

পরে বাংলা গানের প্রতি তাঁর ভালোবাসার আরেকটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় ‘বারান্দায় রোদ্দুর’ গানকে ঘিরে। ২০১৬ সালে দুর্গাপূজার অ্যালবামের জন্য ভূমি ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানটির ইংরেজি সংস্করণ তৈরি করেন তিনি। শুধু কণ্ঠ দেননি, ইংরেজি কথাও লিখেছিলেন। একই অ্যালবামে ভূমির আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘কাঁদে শুধু মন’-এর ইংরেজি সংস্করণেও কাজ করেন তিনি।

২০২২ সালে ৪৪ বছর পর আবার ইনরেকো ও হিন্দুস্তান রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকাশ করেন নতুন বাংলা গান ‘মন মানছে না আর’। রাজীব দত্তর লেখা গানটির সুর করেছিলেন সুবজিত রায়। গানটি প্রকাশের সময় উষা বলেছিলেন, পুরোনো সংগীতপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আবার কাজ করতে পেরে তাঁর কাছে বিষয়টি ঘরে ফেরার মতো।

বাংলাদেশের সঙ্গেও তাঁর সংগীতের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের গীতিকার ইশতিয়াক আহমেদের লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া এই গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন শুভজিৎ রায়। গানটির কথায় ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা-‘হেরে যাওয়া মানে ভেঙে পড়া নয়, আবার উঠে দাঁড়াও’। দুই বাংলার শ্রোতাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি গানটির হিন্দি সংস্করণও করার পরিকল্পনা ছিল।

বাংলাদেশের শিল্পীদের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ। ২০১৪ সালে ভারতের মাটিতে রুনা লায়লার সঙ্গে একই মঞ্চে পরিবেশনা করেন উষা। দুই বাংলার সংগীতের মেলবন্ধন নিয়ে তখন তিনি বলেছিলেন, রুনা লায়লা থেকে সাবিনা ইয়াসমীন—বাংলাদেশের শিল্পীরা তাঁর স্টুডিওতে আসেন গান রেকর্ড করতে। একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ভূখণ্ডের মানুষের মধ্যে আলাদা সীমারেখা টেনে দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

পাঁচ দশকের বেশি সময়েও মঞ্চে অপ্রতিদ্বন্দ্বী
উষা উত্থুপের জনপ্রিয়তা শুধু পুরোনো গানের স্মৃতিতে আটকে নেই। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। অ্যাডেলের ‘স্কাইফল’ কিংবা মাইলি সাইরাসের ‘ফ্লাওয়ার্স’ গান নিজের মতো করে গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন তিনি। নাতনির পরামর্শে ‘স্কাইফল’ গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন উষা। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও নতুন প্রজন্মের সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি।

অভিনয়েও কাজ করেছেন তিনি। ‘সাত খুন মাফ’, ‘এক্স: পাস্ট ইজ প্রেজেন্ট’সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে দেখা গেছে তাঁকে। ছোট পর্দায়ও তাঁর কণ্ঠ ও উপস্থিতি পরিচিত। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো সরাসরি মঞ্চে পরিবেশনা। দর্শকের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ তৈরি করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।

২০২৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত হন উষা উত্থুপ। এর আগে পেয়েছেন পদ্মশ্রী। এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হলেও শ্রোতাদের ভালোবাসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ব্যক্তিজীবনেও এসেছে বড় আঘাত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর স্বামী জানি চাকো উত্থুপ।

হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

সূত্র: প্রথম আলো