|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কেন কারও কারও জন্য চার ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
১৬৩ পঠিত
কেন কারও কারও জন্য চার ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। কেউ কেউ মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়েও পরদিন বেশ সতেজ ও কর্মক্ষম থাকেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে থাকতে পারে বিশেষ ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজির অধ্যাপক...
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। কেউ কেউ মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়েও পরদিন বেশ সতেজ ও কর্মক্ষম থাকেন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে থাকতে পারে বিশেষ ধরনের জিনগত বৈশিষ্ট্য। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজির অধ্যাপক অ্যামি পিউ বার্নার্ড এমনই একজন। দীর্ঘদিন ধরেই তার কম ঘুমের অভ্যাস। সাধারণত রাত ১০টার দিকে ঘুমাতে যান এবং ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেগে ওঠেন। কখনো ঘুম আসতে দেরি হলে তার ঘুমের সময় পাঁচ ঘণ্টায় নেমে আসে। তারপরও পরদিন কুকুর নিয়ে হাঁটা, এক ঘণ্টা ব্যায়াম এবং সকাল ৮টার আগেই দেড় ঘণ্টা কাজ শেষ করেন তিনি। ২০১৯ সালে বার্নার্ড জানতে পারেন, তার কম ঘুমের পেছনে রয়েছে একটি জিনগত পরিবর্তন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকেরা ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন একটি জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছিলেন। এর বাহকেরা সাধারণত চার থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারেন। এ ধরনের বিরল বংশগত বৈশিষ্ট্যের নাম ‘ফ্যামিলিয়াল ন্যাচারাল শর্ট স্লিপ’ (এফএনএসএস)। পরবর্তী সময়ে এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কয়েকটি জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ধারণা, এসব জিনগত বৈশিষ্ট্য শুধু ঘুমের সময় কমায় না, বরং কম ঘুমের কিছু নেতিবাচক প্রভাব থেকেও শরীরকে সুরক্ষা দিতে পারে। প্রাণীর ওপর চালানো কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের জিনগত পরিবর্তন স্মৃতিশক্তির ক্ষতি এবং আলঝেইমারসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। সব কম ঘুমই কি স্বাভাবিক? গবেষকদের মতে, ঘুমের সময়ের পার্থক্যের ৩০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত জিনগত কারণে হতে পারে। মানুষের জিনের শত শত ভিন্নতা ঘুমের সময়কে প্রভাবিত করে। তবে কম ঘুমের প্রবণতা থাকলেই যে কেউ সুস্থ থাকবেন, এমন নয়। কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, বিষণ্নতার লক্ষণ, এডিএইচডি ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্পর্কও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কেউ কম ঘুমিয়েও নিজেকে সুস্থ মনে করলেও বাস্তবে তার কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের সময় প্রতিরাতে চার থেকে ছয় ঘণ্টায় সীমিত রাখার পর তাদের বিভিন্ন জ্ঞানীয় পরীক্ষায় ফল ক্রমাগত খারাপ হয়েছে। অথচ দুই সপ্তাহ পরও তারা নিজেদের সামান্য ঘুমঘুম ভাব অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুমবিষয়ক গবেষক হ্যান্স ভ্যান ডংগেনের মতে, ঘুমের ঘাটতিতে মানুষের কর্মক্ষমতা কমতে থাকলেও নিজের এই দুর্বলতা বোঝার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশা, জিনগত গবেষণার অগ্রগতি ভবিষ্যতে প্রকৃতিগতভাবেই কম ঘুমানো মানুষদের শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে যারা কম ঘুমিয়েও নিজেদের স্বাভাবিক মনে করেন, কিন্তু অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সূত্র: বিবিসি

সূত্র: কালবেলা