গ্রিন রোডের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিএনপির সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান
গণমাধ্যম ডেক্স
রাজধানীর গ্রিন রোডের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কলাবাগান থানা প্রশাসন। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফুটপাতের অবৈধ দোকান, চায়ের স্টল, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং পরিবেশ দূষণ রোধেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। পান্থপথ চৌরাস্তা থেকে শুরু হওয়া অভিযানটি গ্রিন রোডের এক পাশ ধরে ল্যাবএইড লিমিটেড (ডায়াগনস্টিক)পর্যন্ত যায়। পরে সড়কের অপর পাশ দিয়ে ফিরে এসে নির্ধারিত এলাকায় অভিযান শেষ করা হয়। এ সময় গ্রিন রোডের মূল সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন গলিতেও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা চায়ের দোকান, ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনি ও কার্পেট সরিয়ে ট্রাকে তোলা হয়। পাশাপাশি ফুটপাতের জায়গা দখল করে রাখা কয়েকটি স্থায়ী দোকানের বর্ধিত অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। কিছু দোকান মালিককে ফুটপাতের ওপর রাখা মালামাল ও স্থাপনা নিজস্ব জায়গার ভেতরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা গাড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে ফুটপাতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে সচেতন করা হয়। হোটেল ও রেস্তোরাঁর বাইরে সড়কমুখী ধোঁয়া নির্গমনের পাইপ স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি না হয়।
অভিযান শেষে কলাবাগান থানা বিএনপির আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাইদ বলেছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখলের কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রিন রোড ও পান্থপথের মতো হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখল থাকলে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন।
কলাবাগান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শীব্বির আহমেদ শুভ্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ ভাবনার আলোকে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত চার-পাঁচ দিন ধরে কলাবাগান থানার ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
শুধু উচ্ছেদ নয়, পুনরায় যাতে ফুটপাত দখল না হয় সে প্রসঙ্গে শীব্বির আহমেদ শুভ্র বললেন, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলোকে ফুটপাতের অবৈধ দখলমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। শুধু উচ্ছেদ করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে আবার ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো না হয়, সে বিষয়েও তারা কাজ করবেন। জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেছিলেন, থানা এলাকায় অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হচ্ছে। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত চলাচলের উপযোগী ও দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করছেন। উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ ফুটপাত দখল করতে না পারে এবং সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স