দুর্গাপূজা ঘিরে বাংলাদেশের নতুন ছবি! তারেক রহমানকে কেন অভিনন্দন জানাচ্ছেন অনেকে?
গণমাধ্যম ডেক্স
অভিনন্দন দিতেই হবে। সাবাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আপনি প্রমাণ করে দিলেন শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির জাতীয় উৎসব। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলতেন- ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ কিন্তু তার আমলে বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছর বিশেষ করে তার শেষ পাঁচ/সাতটি বছর কোনো না কোনো জায়গায় পূজামণ্ডপ ভাঙা হয়েছে। মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন হিন্দুরা। রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান নানা সময় আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
ব্যতিক্রম এবারে। বাংলাদেশের দুর্গাপূজা শান্তি সম্প্রীতির অভূতপূর্ব নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে রইল জিয়াপুত্র তারেক রহমানের সৌজন্যে। বাংলাদেশের এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা প্রমাণ করল শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুর উৎসব নয় এটি বাঙালির জাতীয় উৎসব। মূর্তি ভাঙার ঘটনা যে ঘটেনি, সে কথা বলছি না। বেশ কিছু প্রান্তিক জায়গা থেকে ভাঙচুরের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু, সংখ্যায় তা নগণ্য। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সব দেশেই কম-বেশি ঘটে থাকে। তবে, হিংসা কখনই কাম্য নয়। এ বছর যা কিছু ঘটেছে, আগামীতে সেগুলো বন্ধ করতে তারেক-সরকার তৎপর হবে, এ আশা করাই যায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রশংসা
‘মনে রাখার মতো এক দুর্গাপূজা-ধন্যবাদ বাংলাদেশ!’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন বাংলাদেশের নাগরিক সোহাগকুমার মণ্ডল। তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশই দেখতে চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।’
নাটোরের ২৯ বছর বয়সী সোহাগ বলেন, ‘এবার পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল।’
তিনি বলেন, ‘নিজের শহরে প্রায় ২০টি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেছি। সব জায়গাতেই প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল, সবাই আনন্দ করছিলেন। দুর্গাপূজার সময় সাধারণত যে ভয় কাজ করে, এবার তা অনেকটাই কম ছিল।’ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ বলেন, ‘আমি একমত যে এ বছরের দুর্গাপূজা আগের বছরগুলোর তুলনায় ভালো হয়েছে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।’
তিনি জানান, দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানো, বরাদ্দ বৃদ্ধি, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন- সব মিলিয়েই এবারের উৎসবের পরিবেশ উন্নত হয়েছে।
তারেক ম্যাজিক
এ বছর বাংলাদেশে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের রংপুর, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম- এই তিন জায়গার মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখেন তিনি। তারেকের সফরসঙ্গী হিসাবে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্রমণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে নতুন করে অক্সিজেন দিয়েছে, সন্দেহ নেই। পাশাপাশি, দুষ্কৃতীদের কাছেও কঠোর বার্তা গিয়েছে। দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে পূজা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি-খবর প্রকাশিত হওয়ায় দুষ্কৃতীরা সতর্ক হয়েছে। উত্তেজনা অনেকাংশ হ্রাস হয়েছে।
পূজা বেড়েছে, বেড়েছিল ছুটিও
রাজধানী ঢাকায় পূজার সংখ্যা তিনটি কমলেও গোটা দেশে পূজার সংখ্যা দেড় হাজার বেড়ে হয়েছিল ৩৩ হাজার ৮৫১। দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি তহবিল থেকে যে টাকা দেওয়া হয়, এ বছর তার পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি করে বাংলাদেশ সরকার। ছুটিও বাড়ানো হয় এক দিন। এমন পদক্ষেপ সংখ্যালঘু হিন্দুদের মনে আলাদা উৎসাহ তৈরি করেছিল।
অতীতের অন্ধকার
২০২৪ ও ২০২৫ সালের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পূজাকেন্দ্রিক অন্তত ৮৪টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এসব ঘটনার মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুর এবং উৎসব বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাও ছিল। এর আগের বছরগুলোতেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়মিতভাবে প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর এটাই ছিল প্রথম দুর্গাপূজা। ফলে সরকারের সামনে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ; নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণেরও প্রয়োজন ছিল। যেখানে তিনি নিঃসন্দেহ সফল।
বিশেষজ্ঞদের সাধুবাদ
বাংলাদেশি-মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাফকাত রাব্বী বলেন, এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার, বিরোধী দল এবং বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সহযোগিতা জরুরি ছিল। তার ভাষায়, ‘এ বছর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রায় কোনও বড় সমস্যা না হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে নির্বিঘ্নে পূজা আয়োজন নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলসহ পুরো সমাজ সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।’
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশকে সাধারণত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জানুয়ারির নির্বাচনে কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠন বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার জন্য তারেক রহমানের কাছে দুর্গাপূজা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
সেখানে তারেক রহমান সাফল্যের সঙ্গে পাস করে গিয়েছেন।
সূত্র: প্রথম কলকাতা
সূত্র: কালবেলা