|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পুতিনকে পাঠানো গোপন চিঠিতে এস-৪০০ চেয়েছেন মোজতবা খামেনি: রিপোর্ট

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
৩৫০ পঠিত
পুতিনকে পাঠানো গোপন চিঠিতে এস-৪০০ চেয়েছেন মোজতবা খামেনি: রিপোর্ট
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ে আসা এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করবেন বলে আশাবাদী তেহরান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জা...
ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ে আসা এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করবেন বলে আশাবাদী তেহরান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুতিনের কাছ থেকে এস-৪০০ ব্যবস্থা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী দেশটি। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইকে একটি ব্যক্তিগত গোপন চিঠিসহ মস্কোতে পাঠান। ওই চিঠির মূল দাবিই ছিল এস-৪০০ সরবরাহ। এস-৪০০ নিয়ে এই আলোচনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, রাশিয়া ইরানকে কোনোভাবেই সহায়তা করছে না। মস্কো সফরের পর রেজাই বলেন, পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ইরানে নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মোকাবিলা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব চুক্তি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্য টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রস্তাবও ছিল। গোপন নথিতে দেখা গেছে, ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা চীন ও রাশিয়ার মতো স্বাধীন বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার সুপারিশ করেছিলেন। এর মাধ্যমে মার্কিন চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে ইরানের পার্লামেন্টের একটি গোপন কমিটি এসব সুপারিশ তৈরি করে। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এস-৪০০ পাওয়ার নতুন উদ্যোগ ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এতে নিজেদের আকাশসীমা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ইরানের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া বহু বছর ধরেই ইরানের কাছে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনা দেখিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করেনি মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের প্রয়োজনেও এস-৪০০ সরবরাহে অনীহা দেখাতে পারে রাশিয়া। ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রুশ তেল শোধনাগার, বিমানঘাঁটি এবং অন্যান্য স্থাপনা নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ইরানের চাহিদা থাকলেও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা রাশিয়ার হাতে নাও থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ফাঁস হওয়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কিছু নথিতে ইরানের জন্য হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির তথ্যও উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো ইরানের জন্য বিশেষায়িত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরঞ্জাম তৈরি করছে। এ রপ্তানি চুক্তির কাগজপত্রে ইরানকে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এলএমইউআর বা প্রোডাক্ট-৩০৫ নামের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা। ২০২৪ সালের একটি সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, দুটি করে রেলযুক্ত ৯০টি উৎক্ষেপণযন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহের ইউনিট তৈরি করে ইরানে পাঠানোর কথা ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে ট্রাম্প রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। গত ১২ অক্টোবর রাশিয়া ও চীনের সহায়তার বিষয়ে সতর্কবার্তা নাকচ করে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাদের সহায়তার মাত্রা খুবই কম। তবে তারা আদৌ সহায়তা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। এরপর ২১ অক্টোবর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, সংকট সমাধানে কিছু করার সুযোগ থাকলে রাশিয়া সহায়তা করতে আগ্রহী। দ্য টেলিগ্রাফের পর্যালোচনা করা ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনাসংক্রান্ত একটি স্মারকলিপিতে বড় ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাজে লাগানোর কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, গত চার দশকে বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে, ‘ভেতর থেকে পতন’ ঘটানোর কৌশল সহজে সফল করা সম্ভব নয়। এতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানানো চীন ও রাশিয়ার মতো নতুন বৈশ্বিক শক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের কৌশলগত তৎপরতার সুযোগ বাড়িয়েছে। মার্কিন কৌশলের জবাব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতিরোধমূলক অর্থনীতি শক্তিশালী করা, তেল আয়ের ওপর নির্ভরতা কমানো, চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির সঙ্গে বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানো। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচরণের অসংগতিগুলো তুলে ধরতে জনকূটনীতি ও গণমাধ্যমকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন ধারণা পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে দেশটির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কোনো জোট গড়ে উঠতে না পারে। পাশাপাশি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনে ইরানের ভূমিকা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। স্মারকলিপিতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং গ্যাস মজুতের ৪০ শতাংশ এ অঞ্চলে রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল এ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এবং কনটেইনার পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসব নৌপথ দিয়ে চলাচল করে। নথিতে বলা হয়েছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অন্তত দুটি বর্তমানে হুমকির মুখে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। ফলে পশ্চিমাদের কাছে পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায়নি। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পেছনেও ইরানের এই কৌশলগত বিবেচনা কাজ করেছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কূটনীতির বিকল্প নেই, এ কথা ওয়াশিংটনও জানে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতির সমন্বয় ঘটাচ্ছে। নথির তথ্য অনুযায়ী, এর লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্তি, দেশটির সঙ্গে অন্যান্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং অবকাঠামো, বন্দর, সড়ক, পানি, কৃষি ও প্রযুক্তির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পথ তৈরি করা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানের জন্য ক্ষতিকর হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক সুযোগও তৈরি করেছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধবিমান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে উৎসাহিত করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বাভার-৩৭৩ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শাহেদ-১৩৬ ও আবাবিল ড্রোনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ইরানকে থামাতে পারেনি; বরং দেশটিকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে আরও এগিয়ে দিয়েছে। সূত্র :দ্য টেলিগ্রাফ

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স