|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫ এর অর্ধেকের বেশি আজিজুল হক কলেজের ঝুলিতে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
২২৬ পঠিত
বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫ এর অর্ধেকের বেশি আজিজুল হক কলেজের ঝুলিতে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডের সার্বিক ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে বগুড়া জেলাতেও। বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জেলাজুড়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী। তবে ফলাফলের এই খরা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও একা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির অর্ধেকের বেশি নিজেদের দখলে রেখে জেলায়...

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডের সার্বিক ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে বগুড়া জেলাতেও। বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জেলাজুড়ে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী। তবে ফলাফলের এই খরা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও একা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির অর্ধেকের বেশি নিজেদের দখলে রেখে জেলায় শিক্ষার শীর্ষ স্থান ও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। পুরো জেলায় অর্জিত মোট জিপিএ-৫ এরমধ্যে একা এই কলেজ থেকেই এসেছে ৭৪৭টি, যা মোট প্রাপ্তির ৫৭ শতাংশ।

বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এ বছর ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

কলেজের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফলকে আরও উন্নত করতে এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোর্ডে পাসের হার অর্ধেকের নিচে নামলেও শহরের প্রথম সারির নামি-দামি কলেজগুলো পাসের হার ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখতে পেরেছে। জেলায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান- মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল ও কলেজ ৭৬ জনের মধ্যে ২৬টি জিপিএ-৫ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ ৮০ জনের মধ্যে শতভাগ পাস, তবে জিপিএ-৫ শূন্য।

অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪২০ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৯৮.৮২ শতাংশ, জিপিএ-৫ ৪৪টি)। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৬৬৫ জনের মধ্যে ৬৫৭ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৯৮.৮০ শতাংশ, জিপিএ-৫ ২৪টি)। এছাড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ২৪০ জনের মধ্যে ২৩৬ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৯৮. ৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ ৪১টি)। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজে পাসের হার ৯২.১৪ শতাংশ (জিপিএ-৫ ১১টি) এবং বগুড়া সরকারি কলেজে পাসের হার ৮৯.৯০ শতাংশ (জিপিএ-৫ ১০৭টি)।

ফলাফলের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে জেলার অন্যান্য বড় দুই সরকারি কলেজে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৮৭ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৮১.৭৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ ৫৬টি)। আর সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশে; ১ হাজার ৩৯৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন (জিপিএ-৫ ৬৪টি)। এর বাইরে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। 

শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ, এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। 

সার্বিক ফল বিপর্যয় ও মূল্যায়নের বিষয়ে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষার টেবিলে বসা উচিত।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স