|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বিপর্যস্ত জ্বালানি খাত, যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ইরান?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
২০২ পঠিত
বিপর্যস্ত জ্বালানি খাত, যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ইরান?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোক্যামিকেল খাতের অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত করে উৎপাদন আবার চালু করতে পারবে ইরান। তবে আগের মতো শক্তিশালী ও আধুনিক জ্বালানি খাত গড়ে তোলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীরা চীন ও রাশিয়ার সহা...

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোক্যামিকেল খাতের অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা মেরামত করে উৎপাদন আবার চালু করতে পারবে ইরান। তবে আগের মতো শক্তিশালী ও আধুনিক জ্বালানি খাত গড়ে তোলা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীরা চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর অনেক কিছুই মেরামত করতে পারবেন। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, অর্থের অভাব, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা দেশটির জন্য বাধা হয়ে আছে।

কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির (সিইওবিএস) স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৪ জুনের হামলায় তেহরানের শাহরান তেল ডিপোর চারটি ট্যাংক ধ্বংস হয়। একই হামলায় দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৬ সালের মার্চে শাহরান, আকদাসিয়েহ ও কারাজের তেল সংরক্ষণাগার এবং তেহরান শোধনাগারেও হামলা হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, আসালুয়েহ এলাকায় দক্ষিণ পার্সের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পেট্রোরসায়ন শিল্পেও হামলার প্রভাব পড়েছে। ৪ এপ্রিলের হামলায় মাহশাহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পরিষেবা সরবরাহকারী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বান্দার ইমাম শিল্প কমপ্লেক্সেও আঘাত লাগে। এসব স্থাপনা থেকে আশপাশের কারখানাগুলো বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পায়। ফলে একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

কিছু স্থাপনায় উৎপাদন ফিরছে

যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে কিছুটা উৎপাদন ফিরিয়ে আনতে পেরেছে ইরান। ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে দেওয়া এক ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদনক্ষমতার অর্ধেক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি।

ইরানের নিজস্ব প্রকৌশলীদের তেল ও গ্যাস খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে গেছেন। দেশটির এমএপিএনএ প্রতিষ্ঠান উন্নত গ্যাস টারবাইন তৈরির পরীক্ষায় সফলতার কথাও জানিয়েছে।

তবে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ইরানের জ্বালানি খাতে বহু বছর ধরে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। অনেক যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে গেছে। আবার আধুনিক প্রযুক্তি আমদানিতেও বাধা রয়েছে।

গ্যাসক্ষেত্রের বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন কমতে থাকে। উৎপাদন ধরে রাখতে বিশেষ যন্ত্রপাতি বসাতে হয়। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ দরকার। ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সরে যাওয়ায় সেখানে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এলএনজি রপ্তানিতেও পিছিয়ে ইরান

ইরান দীর্ঘদিন ধরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির পরিকল্পনা করছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস স্থাপনা মেরামত করে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এলএনজি রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রযুক্তি, বিপুল অর্থ, গ্যাস পরিবহনের জাহাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়।

চীন ও রাশিয়া কতটা সাহায্য করবে?

পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান চীন ও রাশিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা। দেশটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল সহায়তা ও অর্থায়ন দিতে পারে। তবে ইরানের কাছ থেকে কম দামে তেল কেনা আর সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি প্রকল্প থেকে সরে যায়। নতুন করে বিনিয়োগের আগে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থের নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং লাভের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

রাশিয়ার সহায়তার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ও ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির মধ্যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ইরানের জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ নিয়েও সংশয় আছে।

আবার হামলা হলে বিনিয়োগ করবে কে?

ইরানের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো নতুন করে হামলার আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মেরামত করা স্থাপনাগুলোও।

এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানে বিনিয়োগ করতে বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে আগ্রহী নাও হতে পারে। কারণ, নতুন হামলায় তাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাই ইরানকে শুধু স্থাপনা মেরামত করলেই চলবে না, কোন স্থাপনাগুলো আগে চালু করা জরুরি, সেটিও ঠিক করতে হবে। গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ঠিক করা গেলে একসঙ্গে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শুরু হতে পারে।

ক্ষতির ধরন অনুযায়ী মেরামতে সময়ও লাগবে ভিন্ন ভিন্ন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে কিছু স্থাপনা কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব। তবে বড় যন্ত্রপাতি বদলানো ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

সূত্র: কালবেলা