|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

বৃষ্টিতে ভেজে সরকারি নথি, স্টোররুমে বাদুড়ের বাস

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
৪০৬ পঠিত
বৃষ্টিতে ভেজে সরকারি নথি, স্টোররুমে বাদুড়ের বাস
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিজছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। স্টোররুমে বাদুড়ের বসবাস, মেঝেজুড়ে বিষ্ঠা আর দুর্গন্ধ। এর সঙ্গে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। এমন বেহাল অবস্থায় চলছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলে...

দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা। টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে ভিজছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। স্টোররুমে বাদুড়ের বসবাস, মেঝেজুড়ে বিষ্ঠা আর দুর্গন্ধ। এর সঙ্গে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। এমন বেহাল অবস্থায় চলছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভূমিসেবা। ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের পুকুরের পূর্ব দিকে ছোট একটি টিনশেড ভবনে চলছে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটি একসময় জমিদার সুমেরু গিরির ছেলে জমিদার আশুতোষ গিরির খাজনা আদায়ের কাচারি ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পুরোনো সেই কাচারি ঘরটিই বর্তমানে ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভবনটিতে রয়েছে ছোট তিনটি কক্ষ। একটি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কক্ষ, একটি দাপ্তরিক কাজের জন্য এবং অন্যটি স্টোররুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা। ছাদের টিন ও কাঠের অংশও নষ্ট হয়ে গেছে। টিনের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র ও ফাঁক থাকায় বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এতে ভিজে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র। দীর্ঘদিন ধরে পানি পড়ায় আসবাবপত্রও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্টোররুমের অবস্থাও শোচনীয়। সেখানে বাদুড়ের বসবাস। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাদুড়ের বিষ্ঠা। এতে পুরো কক্ষে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, অফিসের প্রবেশপথের পাশেই রয়েছে শৌচাগার। সেটির দরজাও জরাজীর্ণ। সামান্য ধাক্কা দিলেই খুলে যায়। শৌচাগারের পাশে থাকা নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। পানি না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। অফিসে সরকারি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

অফিস পরিচালনায় রয়েছে জনবল সংকট। স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্তত পাঁচজন কর্মচারী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। তারা হলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রায়হান কবির, জারীকারক শামসুন্নাহার ও অফিস সহায়ক ইমরান হোসেন। এর মধ্যে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রায়হান কবির সপ্তাহে তিন দিন গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পাশের খালিশা চালানী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ করেন। ফলে গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ভূমিসেবা নিতে আসা দক্ষিণ গয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, ‘এর আগে দুইবার অফিসে এসে তহশিলদারকে না পেয়ে ফিরে গেছি। তৃতীয়বার এসে দুপুর ১২টার দিকে তাকে পেয়েছি। তিনি আমাকে ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ দেওয়ার কথা বলেছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসটির এমন বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে। এ পরিবেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করতেও সমস্যা হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, ‘ভবনটির দেয়াল থেকে প্রতিদিনই পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং দাপ্তরিক কাগজপত্র ভিজে যায়। নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় পানি পাওয়া যায় না। পাশের পুকুর থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে অফিস পরিচালনার জন্য অন্তত পাঁচজন কর্মচারী প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র তিনজন। জনবল সংকটের কারণে প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণ করছে। গয়াবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনবল সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।’

সূত্র: কালবেলা