|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

স্মৃতির ঘাটে আবার ভিড়ছে জলধারা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০০ এএম
৩১২ পঠিত
স্মৃতির ঘাটে আবার ভিড়ছে জলধারা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘এসো মিলি জলধারা’ নৌবিহারে ময়মনসিংহ থেকে চাঁদপুর যাওয়ার সেই যাত্রা আজও মনে দাগ কেটে আছে। সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় প্রথম আলো বন্ধুসভার ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আবারও আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ‘এসো মিলি জলধারা ২.০’। বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সাংগঠনি...

শীতের সকাল। চারদিকে ঘন কুয়াশা, বাতাসে হিমের পরশ। ঢাকার সদরঘাটে একে একে জড়ো হচ্ছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বন্ধুরা। কারও সঙ্গে আগে পরিচয়, কারও সঙ্গে এই প্রথম দেখা। পরিচয়ের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে জমে উঠছে হাসি, গল্প আর আড্ডা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদীর বুকে শুরু হবে যাত্রা। গন্তব্যের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে একসঙ্গে পথচলার আনন্দ। এই দৃশ্য যেন ফিরিয়ে আনছে চার বছর আগের স্মৃতি।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘এসো মিলি জলধারা’ নৌবিহারে ময়মনসিংহ থেকে চাঁদপুর যাওয়ার সেই যাত্রা আজও মনে দাগ কেটে আছে। সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় প্রথম আলো বন্ধুসভার ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আবারও আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ‘এসো মিলি জলধারা ২.০’। বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সাংগঠনিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক মিলনমেলা।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের সেই নৌবিহারে অংশ নিতে আগের দিন বিকেলে ময়মনসিংহ থেকে রওনা দিয়েছিলাম আমরা চারজন—আমি, বাশার ভাই, সারোয়ার ভাই ও শিশির। পরিকল্পনা ছিল রাতে জাহাজে কাটিয়ে পরদিন সকাল থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেব। সে কারণেই এক দিন আগে যাত্রা। পথে সাভার থেকে আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন হীরা ভাই।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য জাহাজে রাত কাটানো হলো না। উঠলাম স্থানীয় একটি হোটেলে। পরদিনের অনুষ্ঠান নিয়ে সবার মনে চাপা আনন্দ আর উত্তেজনা। রাতে ঘুম আসছিল না। সময় কাটানোর জন্য তাস খেলায় মেতে উঠলাম আমরা। ভোর হতে না হতেই গোছগাছ করে পৌঁছে গেলাম ঘাটে। ততক্ষণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক বন্ধু এসে জড়ো হয়েছেন। সকাল সাতটা বাজার আগেই জমে উঠল পরিচয়পর্ব, উচ্ছ্বাসপূর্ণ আলাপচারিতা আর হাসি-আড্ডা।

একদিকে প্রচণ্ড কুয়াশা, অন্যদিকে হিমেল বাতাস। শীতের তীব্রতা বাড়ছিল, অথচ বন্ধুদের উচ্ছ্বাসে তার যেন কোনো প্রভাবই ছিল না।
জাহাজ ছেড়ে দিল চাঁদপুরের উদ্দেশে। নদীর বুকে এগিয়ে চলল আমাদের যাত্রা। গান, আনন্দ আর আড্ডায় কখন যে সময় কেটে যাচ্ছিল, টেরই পেলাম না। গানের সুরে, কথার ফাঁকে ফাঁকে আর নতুন পরিচয়ের আনন্দে যাত্রাপথ হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর।

দুপুর দেড়টার দিকে আমরা লঞ্চ থেকে নামলাম চাঁদপুরে। সেখানে ব্যান্ড বাজিয়ে আমাদের বরণ করে নিল চাঁদপুর বন্ধুসভা। অপরিচিত শহরটিও যেন মুহূর্তে আপন হয়ে উঠল। চাঁদপুরের নদীবন্দর, নদীর পাড়ের পরিবেশ আর মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হওয়ার মতো অনেক কিছুই ছিল। তবে সেই ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল নদীর পাড়ে ডাকাতিয়া-পদ্মা-মেঘনার ত্রিমোহনায় বসে ইলিশ খাওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে নদীর কাছে বসে সেই খাওয়ার আনন্দ ছিল অন্য রকম।

আজও সেই স্মৃতি মনে পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুয়াশায় ঢাকা ঘাট, নির্ঘুম রাত, জাহাজের আড্ডা আর চাঁদপুরে পৌঁছে ব্যান্ডের সুরে বরণ করে নেওয়ার দৃশ্য। সময় পেরিয়ে গেলেও কিছু অভিজ্ঞতা মানুষের মনে থেকে যায়। কারণ, সেগুলো শুধু কোনো জায়গায় যাওয়ার স্মৃতির পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার গল্প।

২০২২ সালের প্রথম ‘এসো মিলি জলধারায়’ আয়োজনের স্মৃতি থেকেই এবারের ‘এসো মিলি জলধারায় ২.০’ নামটির বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। প্রথম আয়োজনের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় চার বছর পর আবারও বন্ধুদের একত্র করার পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে।

বন্ধুদের মধ্যে মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে এ ধরনের মিলনমেলা। বিভিন্ন অঞ্চলের বন্ধুদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা এক জায়গায় আসার ফলে সাংগঠনিক কাজের নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত হয়।

সাবেক সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা

সূত্র: প্রথম আলো