|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সাতলা স্কুলের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
২২৪ পঠিত
সাতলা স্কুলের কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বরিশালের উজিরপুরে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত মো. আতিকুল ইসলাম নান্নুর মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ায় তার সদস্যপদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাহিয়ান। অভিযোগ নিষ্পত্তি ও তদন্তের আগেই...
বরিশালের উজিরপুরে সাতলা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত মো. আতিকুল ইসলাম নান্নুর মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ায় তার সদস্যপদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাহিয়ান। অভিযোগ নিষ্পত্তি ও তদন্তের আগেই কমিটি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান বলছেন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক অ্যাডহক কমিটিতে প্রতিনিধি হতে পারবেন না। বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যানের কাছে কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ দেন সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাহিয়ান। তার দাবি, সাধারণ সভা আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত না নিয়েই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাস মাত্র তিনজনের নামের একটি প্রস্তাব উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার কাছে পাঠান। অভিযোগ নিষ্পত্তি না করেই গত ১৮ অক্টোবর কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মো. আতিকুল ইসলাম নান্নুর মেয়ের শ্রেণি নিয়েও আপত্তি তুলেছেন নাহিয়ান। তার দাবি, প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী অভিভাবক প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করছেন না নান্নু, কারণ তার মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। তবে নান্নু কালবেলাকে বলেন, আমার মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। আমি নিয়ম মেনেই অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। অ্যাডহক কমিটি করার ক্ষেত্রে দশম শ্রেণিতে পড়লেও সমস্যা নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাসও দাবি করেন, নান্নুর মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়লেও অ্যাডহক কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি হতে কোনো বাধা নেই। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দশম শ্রেণিতে পড়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক অ্যাডহক কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি হতে পারবেন না। বোর্ড কমিটি অনুমোদন দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে কখনো কখনো ভুল হতে পারে। বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে চেয়ারম্যান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, নিয়ম মেনে কমিটি গঠনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কারও সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং তার নির্দেশনাও অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত ব্যক্তির সন্তানকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। তার ভাষ্য, প্রস্তাবিত অভিভাবক প্রতিনিধির নাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ইউএনও বোর্ডে পাঠিয়েছেন, বোর্ড সেই নাম অনুমোদন করেছে। পুনরায় অভিযোগ এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে এমন ভুল কীভাবে হলো, জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন এ ক্ষেত্রে ইউএনও মো. আলী সুজা ও প্রধান শিক্ষক সর্বেশ্বর বিশ্বাসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুল হক বিশ্বাস বলেন, অ্যাডহক কমিটি মাত্র ছয় মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত কমিটি গঠনের সময় বর্তমান অভিভাবক প্রতিনিধি থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে, নাহিয়ান তার লিখিত অভিযোগে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, বিধিমালা অনুসরণ না করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত উপেক্ষার অভিযোগ তোলেন। আবেদনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সদ্য সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও অভিভাবক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অতীতের আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উল্লেখ করেন তিনি। নাহিয়ানের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্ত বা নিষ্পত্তির বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। এর মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি গঠনের প্রতিটি ধাপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান নাহিয়ান।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স