|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

গল্প-উপন্যাস পড়া কি ইসলামে নিষিদ্ধ 

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:০০ এএম
২৭৬ পঠিত
গল্প-উপন্যাস পড়া কি ইসলামে নিষিদ্ধ 
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
উপন্যাস বা গল্পের বই হলো একটি পাত্রের মতো। এর ভেতরে থাকা বিষয়বস্তু এবং তা পাঠকের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ইসলামের বিধান নির্ধারিত হয়।

পবিত্র কোরআনে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অসংখ্য শিক্ষণীয় গল্প বা ‘কাসাস’ স্থান পেয়েছে। তবে যেকোনো সাধারণ কাজের মতোই সাহিত্য পাঠের ক্ষেত্রেও ইসলামে হালাল-হারামের সুস্পষ্ট সীমারেখা ও ফিকহি বিধান রয়েছে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে গল্প বা উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

নীতিবাচক গল্প পাঠ

যে উপন্যাসে মানবজীবনের বাস্তব চিত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, ইতিহাস এবং ন্যায়ের বিজয় ফুটে ওঠে, তা পড়া ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ বা ‘মুবাহ’।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ নবীজিকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘সুতরাং আপনি এসব কাহিনি বর্ণনা করুন, যাতে তারা চিন্তা করে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৭৬)

যেসব সাহিত্য মানুষের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে, তা পাঠ করাতে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

অনৈতিক সাহিত্যের বিধান

উপন্যাস বা গল্পের নামে যেসব বইয়ে অবাধ যৌনতা বা অপরাধমূলক কাজকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়, ইসলামি আইনে সেগুলো পড়া, কেনা বা প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো মানুষের চরিত্র নষ্ট করে এবং পাপের প্রতি প্ররোচিত করে।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা নুর, আয়াত: ১৯)

যেসব সাহিত্য বা কবিতায় অশ্লীলতার বর্ণনা থাকে, মদ্যপানের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করা হয় অথবা কোনো সুনির্দিষ্ট জীবিত নারীর রূপের বর্ণনা দিয়ে মানুষের কামনাবাসনা জাগ্রত করা হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে তা পাঠ করা এবং শোনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, ৬/৪২৬, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)

বিশ্বাসবিনাশী সাহিত্য

এমন অনেক উপন্যাস বা কল্পকাহিনি রয়েছে, যেখানে স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি করা হয়, জাদুবিদ্যাকে মহিমান্বিত করা হয় অথবা ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসকে ব্যঙ্গ করা হয়।

সাধারণ পাঠকদের জন্য এসব সাহিত্য পাঠ করা ইমানের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং নাজায়েজ। তবে যাঁরা গবেষক বা ইসলামি চিন্তাবিদ, তাঁরা শুধু এসব ভ্রান্ত মতবাদ খণ্ডন করার প্রয়োজনে তা অধ্যয়ন করতে পারেন।

উপন্যাস বা গল্পের বই হলো একটি পাত্রের মতো। এর ভেতরে থাকা বিষয়বস্তু এবং তা পাঠকের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ইসলামের বিধান নির্ধারিত হয়।

ফরজ ইবাদতে গাফিলতি

ধরা যাক, একটি উপন্যাস সম্পূর্ণ শিক্ষণীয় ও শালীন। কিন্তু সেই উপন্যাস পড়ার নেশায় যদি কারও ফরজ নামাজ কাজা হয়ে যায়, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয় বা কর্মজীবনের ক্ষতি হয়, তবে সেই পাঠও ইসলামে নিন্দনীয় হয়ে যায়।

ইসলামে সময় মূল্যবান আমানত। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যেসব বিষয়ে মানুষের কোনো কল্যাণ নেই, তা ত্যাগ করাই হলো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

যেসব কাজ মানুষকে আল্লাহর জিকির এবং ফরজ ইবাদত থেকে গাফেল বা উদাসীন করে দেয়, ইসলামে তা মাকরুহ বা ক্ষেত্রবিশেষে হারাম বলে গণ্য হয়; কারণ দুনিয়াবি কোনো বিনোদনই ফরজ ইবাদত বর্জনের বৈধ অজুহাত হতে পারে না। (আল-ফতোয়া আল-হিন্দিয়া, ৫/৩৪৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০০)

সুসাহিত্য ও মননশীলতার চর্চা

সুন্দর কথা ও শব্দের গাঁথুনিকে ইসলাম মূল্যায়ন করে। মহানবী (সা.) মক্কার কবিদের চমৎকার ও অর্থবহ কাব্যের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৪৫)।

উপন্যাস বা গল্পের বই হলো একটি পাত্রের মতো। এর ভেতরে থাকা বিষয়বস্তু এবং তা পাঠকের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তার ওপর ভিত্তি করেই ইসলামের বিধান নির্ধারিত হয়।

একজন মুমিন পাঠক হিসেবে সাহিত্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন ও রুচিশীল হওয়াই ইসলামের মূল দাবি।

সূত্র: প্রথম আলো