|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কমেছে ইলন মাস্কের সম্পদ, রিপাবলিকানদের পক্ষের পোস্ট মুছে দিয়েছেন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
৩৮৮ পঠিত
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কমেছে ইলন মাস্কের সম্পদ, রিপাবলিকানদের পক্ষের পোস্ট মুছে দিয়েছেন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় করেছেন ইলন মাস্ক। তবে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর তাঁর ব্যবসা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। দেশটির নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো ব্যক্তির এটাই সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অনুদান। তবে বিপুল অর্থ খরচ করেও ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ঠেকাতে পারেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ব্যবসা–বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই দেখা গেল, বুধবার টেসলার শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও স্পেসএক্সের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। ফলে তাঁর সম্পদ কমেছে ৩ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। ফোর্বসের হিসাবে, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৭২০ কোটি ডলার।

নির্বাচনের পর ইলন মাস্কের রাজনৈতিক তৎপরতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক্সে রাজনৈতিক পোস্ট কমিয়ে তিনি এখন নিজের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের চ্যাটবট গ্রকের প্রচারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া পোস্ট—দুটিই মুছে ফেলেছেন মাস্ক।

নির্বাচনে যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তার মধ্যে একটি হলো টেক্সাস। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বিবিসির প্রচার তহবিলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্যাক্সটনের পক্ষে অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করেছেন ইলন মাস্ক।

অ্যারিজোনা, মিশিগান, উইসকনসিন, মিনেসোটাসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনেও লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন ইলন মাস্ক। নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর এই খরচ অব্যাহত ছিল। তবে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিছুটা রসিকতার সুরে মাস্ক লেখেন, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে যে ‘মহাকাশের লেজার’ ব্যবহার করেছিলেন, তা কাজ করেনি।

চাপে পড়তে পারে ইলন মাস্কের ব্যবসা

রিপাবলিকানদের পেছনে ইলন মাস্ক এত খরচ করার পরও রিপাবলিকানরা হেরেছে। এই পরিস্থিতিতে মাস্কের ব্যবসা–বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি চুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাস্কের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স আনুমানিক ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের নতুন সরকারি চুক্তি পেয়েছে। সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্পেসএক্সের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন একাধিক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা।

এ ছাড়া স্পেসএক্সের বিশাল তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও নতুন বাধার মুখে পড়তে পারে। একই পরিস্থিতিতে পড়তে পারে অন্যান্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের এআই তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ।

জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে স্পেসএক্সের তথ্যকেন্দ্র আছে। অঙ্গরাজ্যটির সদ্য নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই তথ্যকেন্দ্রের সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ ধরনের প্রকল্পে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল করছাড় পেয়ে থাকে। সেই করছাড় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে জনসমর্থন আছে। এআই সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত এসব বিশাল স্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বিশ্লেষক জেমস ফ্লিনটফ মনে করেন, রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মাস্কের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ে প্রযুক্তি খাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই খাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে তাঁর মত। এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এড মার্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হবে।

সূত্র: প্রথম আলো