|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সুনামগঞ্জে ৪০ বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ, খোয়া গেছে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
২৪৭ পঠিত
সুনামগঞ্জে ৪০ বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ, খোয়া গেছে অর্ধকোটি টাকার সম্পদ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নিজগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বাড়িতে টানা তিন দিন ধরে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে গরু, ধান, পাওয়ার টিলার, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ অর্ধকোটি টাকারও বেশি সম্পদ খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের...

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নিজগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বাড়িতে টানা তিন দিন ধরে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে গরু, ধান, পাওয়ার টিলার, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ অর্ধকোটি টাকারও বেশি সম্পদ খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের পূর্ব পাশে একটি পতিত জমির দখল নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজব আলী ও ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক রুপ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৩১ অক্টোবর দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে রুপ মিয়ার চাচাতো ভাই আব্দুল মান্নান (৬৫) নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের আশঙ্কায় আজব আলীর পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের দাবি, টানা তিন দিনের লুটপাটে ধান-চাল, গরু, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কৃষিযন্ত্র, নৌকা ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০টি বাড়ি থেকে ৬৫টি গরু, পাঁচটি পাওয়ার টিলার, দুটি মোটরসাইকেল, টিউবওয়েলের পানি তোলার পাঁচটি মোটর, ডিজেলচালিত ২০টি ইঞ্জিন, দুটি ধানমাড়াইকল, শতাধিক বস্তা বোরো বীজধান, প্রায় ৪০০ মণ বোরো ধান, দুটি ফ্রিজ, ১২টি গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার, নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া হাঁস-মুরগি, নৌকা, গৃহস্থালির আসবাবপত্র ও হাঁড়িপাতিলও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একটি বাড়ির প্রায় ৫০ কিয়ার জমির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘রাতে এসে ঘরের দরজা খোলার জন্য অনেক লাথি মেরেছে। ঘরের বেড়ায় লাথি মেরেছে, গালাগাল করেছে। ভয়ে আমরা দরজা খুলিনি। ঘরের বাইরে আমার দুই ছেলের দুটি মেশিন, চারটি গরু ও একটি নৌকা ছিল। সেগুলো নিয়ে গেছে।’

মাসুম মিয়ার স্ত্রী মোছা. আসমিনা বেগম বলেন, ‘বাড়িঘরের সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। তিন দিনের লুটপাটে আমরা এখন পথের ফকিরের মতো হয়ে গেছি। ৪০০ মণ ধান, ২০ মণ চাল, তিন ভরি সোনা, ১৭টি গরু, নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ফ্রিজ, পানির মোটর, মোটরসাইকেল, ট্রলি ও ধান ভাঙানোর মেশিনসহ ঘরে যা ছিল, সব নিয়ে গেছে। আমরা এখন চলব কীভাবে?’

লিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কোনো বাড়িতেই পুরুষ মানুষ নেই। ফাঁকা বাড়ি থেকে গরু-বাছুর, ধান-চাল সব নিয়ে গেছে। এখন পানি খাওয়ার একটি গ্লাসও নেই। ৫০ কিয়ার জমির খড় ছিল, গভীর রাতে আগুন দিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে।’

পুলিশের ভয়ে বাড়িছাড়া এলিম উদ্দিনের ছোট বোন মাহমুদা আক্তার ভাইয়ের বাড়ি পরিদর্শনে এসে বলেন, ‘এমন ঘটনা জীবনে দেখিনি। ফাঁকা বাড়িতে নারীদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। আব্দুল মান্নান মারা যাওয়ার পর রুপ মিয়ার লোকজন আমাদের পক্ষের প্রায় ৪০টি বাড়ির কোনো কিছুই বাকি রাখেনি।’

তবে লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নিহত আব্দুল মান্নানের চাচাতো ভাই রুপ মিয়া। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁর বাবার নামে। সেখানে তিনি মাটি ভরাট করেছেন। আজব আলী এখন ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। আজব আলীর লোকজনের হামলায় তার ভাই আব্দুল মান্নান নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি জানান, তার নিজের বাঁ পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না।

আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সংঘর্ষের পর রাতে নিজগাঁও গ্রামে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, এটি সত্য। তবে কারা এসব করেছে, তা তিনি জানেন না। একটি বাড়ির বিশাল খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনেকে তাকে ধান-চাল, পাওয়ার টিলার ও ইঞ্জিন লুট হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সুহেল বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর নিজগাঁও গ্রামে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গ্রামের বাজারে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। রাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে শোনা যাচ্ছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে পুলিশের পক্ষে যাওয়া কঠিন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। লুটপাটের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স