|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে জাপান বিএনপির চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
৪০৯ পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে জাপান বিএনপির চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় সভাকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাপান বিএনপির নেতারা। রোববার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি করেন। নেতাদের দাবি, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি করেননি। বরং...

জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতবিনিময় সভাকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাপান বিএনপির নেতারা। রোববার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি করেন।

নেতাদের দাবি, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি করেননি। বরং বিএনপি ও দলের সমমনা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল। বহিষ্কৃত এক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। তা ছাড়া গত ২৮ অক্টোবর জাপান সফর ঘিরে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে যে ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 

জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ আয়োজনে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের প্রতি সমমনা ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করেছেন। কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম মনি বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের জন্য। এটি বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে কোনো দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না। তাই প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তার মতে, পুরো আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা।

জাপান বিএনপির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. শহীদুল ইসলাম নান্নু প্রকাশিত সংবাদটিকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের ভিত্তিতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই জাপান বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। তার মতে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের অভিযোগ সংবাদ হিসেবে প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি এ ধরনের সংবাদে বিভ্রান্ত না হয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জাপান বিএনপির ১নং সহসভাপতি ড. মাসুম জাকিরও প্রকাশিত অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি সংগঠন বা তার নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি  দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্যে কান না দিয়ে সবাইকে সতর্ক, সংযত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মতপার্থক্য থাকলে তা সাংগঠনিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা যেন দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

জাপান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু, সম্মানিত সদস্য কাজী এনামুল হক, উপদেষ্টা মোফাজ্জল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক সাইফুল্লাহ জায়েদ এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলুসহ জাপান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সবাই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জাপান বিএনপির নেতাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি করেছিল। সেই আগ্রহের জায়গা থেকেই কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনকে ঘিরে কোনো অনিয়ম বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে সরাসরি সত্য হিসেবে প্রচার করা সমীচীন নয়।

নেতারা মনে করেন, প্রবাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য ধরে রাখতে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স