|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

দেড় বছরের আইনি লড়াই শেষে সনদ পেলেন এমি, মাস্টার্সে প্রথম

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
১৯৩ পঠিত
দেড় বছরের আইনি লড়াই শেষে সনদ পেলেন এমি, মাস্টার্সে প্রথম
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর থমকে গিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আনায়াত এমির শিক্ষাজীবন। স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা শেষ করলেও আটকে ছিল ফলাফল ও সনদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। প্রায় দেড় বছর পর আদালত...

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর থমকে গিয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা আনায়াত এমির শিক্ষাজীবন। স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা শেষ করলেও আটকে ছিল ফলাফল ও সনদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি।

প্রায় দেড় বছর পর আদালতের রায়ে বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। ফিরে পেয়েছেন আটকে থাকা ফলাফল ও শিক্ষাগত সনদ। প্রকাশিত ফলে ৩.৭১ সিজিপিএ পেয়ে মাস্টার্সে বিভাগে প্রথম হয়েছেন আফসানা। এর আগে অনার্সেও বিভাগে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি।

মামলার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি আফসানাকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করে। পরে ২২ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদন করা হয়। তবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল ২ মার্চ। অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিকার না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আফসানা। দীর্ঘ দেড় বছর পরবর্তীতে তার বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করা হয় এবং ফিরে পান সনদ। 

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বলেন, ‘শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইনি। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বিপরীতে আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ২৬ পাতার। রায় পড়লে যে কারো স্পষ্টত মনে হবে এটা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এবং অথর জাজ বিপুল সময় এবং অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ঘটনা প্রবাহকে এই বিষয়ের সব লিডিং কেসের আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু রেশিও দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এই মামলাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে সমাদৃত ল জার্নাল ডিএলআর এর সর্বশেষ ইস্যুতে রিপোর্টেড হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বর দুটো ইস্যুতে জয়েন্টলি এই রায় রিপোর্টেড হয়েছে।’

দীর্ঘ এই আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আফসানা আনায়াত এমি বলেন, ‘এটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন একটি লড়াই। তবে আমরা হাল ছাড়িনি। হাইকোর্ট বিভাগ বহিষ্কারের আদেশ অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখেছেন।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের সামনে স্থাপনা ভাঙার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিরাপত্তার দাবিতে শতাধিক ছাত্রী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আফসানার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন ছাত্রীকে বিভিন্ন মেয়াদে এবং আফসানাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স