|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

রোজায় ১০ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ঋণপত্রের মার্জিন কমাল সরকার, পণ্যগুলো কী

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
১৫৮ পঠিত
রোজায় ১০ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ঋণপত্রের মার্জিন কমাল সরকার, পণ্যগুলো কী
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, খেজুরসহ ১০টি নিত্যপণ্যের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি সহজ এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো গেলে ভোক্তারা অপেক্ষাকৃত সহনীয় দামে এসব পণ্য পাবেন।

আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ–সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে, যা ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

পণ্যগুলো কী

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় যে ১০টি পণ্যের এলসি মার্জিন ন্যূনতম রাখার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চাল, গম, আটা, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল), চিনি, ছোলা, মটর, মসলা ও খেজুর।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে এসব পণ্যের পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র স্থাপনে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এলসি মার্জিন কী এবং এর প্রভাব

সহজ কথায় বলা যায়, এলসি বা আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় ব্যবসায়ী বা আমদানিকারককে ব্যাংককে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ বা সিকিউরিটি জমা দিতে হয়, তাকেই এলসি মার্জিন বলা হয়। এটি সাধারণত মোট এলসি মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতকরা হার হয়ে থাকে। যেমন মার্জিন ১০০ শতাংশ হলে আমদানির সমপরিমাণ অর্থই নগদ জমা দিয়ে এলসি খুলতে হয়। মার্জিন ন্যূনতম বা শিথিল হলে খুব অল্প পুঁজি বা ব্যাংকের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে কম নগদ জমার মাধ্যমেই এলসি খোলা সম্ভব হয়।

এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন কম থাকলে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মূলধনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না। এর ফলে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকসহ অনেকেই সহজে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির সুযোগ পান, যা বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

অপর দিকে নগদ মার্জিন ১০০ শতাংশ বা উচ্চহারে নির্ধারিত থাকলে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ব্যাংকে আটকে যায়। এতে আমদানিকারকদের ঋণপত্র খোলার সক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে কৃত্রিম সংকট এবং পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

রমজানে চাহিদা বাড়ে কেন

প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাসে ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। রমজানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। ইফতার ও সাহ্‌রিতে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফলের শরবত, মিষ্টিসহ ভারী খাবারের আয়োজন বাড়ে। ফলে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও মসলার ব্যবহার বেড়ে যায়।

এই মাসে পরিবার ও করপোরেট পর্যায়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় পরিসরে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়, যা পাইকারি ও খুচরা বাজারে অতিরিক্ত চাহিদার চাপ তৈরি করে। রমজানের শুরুতেই একসঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে ঘরে রাখার একটি সাধারণ প্রবণতা ভোক্তাদের মধ্যে দেখা যায়, যা বাজারে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত চাহিদার সৃষ্টি করে।

সূত্র: প্রথম আলো