|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ, ১৮ দিন পর হার মানলেন মৃত্যুর কাছে

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
৩৪৩ পঠিত
স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ, ১৮ দিন পর হার মানলেন মৃত্যুর কাছে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ঢাকার দোহারে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন স্ত্রী পপি আক্তারের (৩৪) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের খাসিরটেক এলাকায় পপি আক্তার নামের গৃহবধূর...
ঢাকার দোহারে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন স্ত্রী পপি আক্তারের (৩৪) মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ দিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের খাসিরটেক এলাকায় পপি আক্তার নামের গৃহবধূর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী আনোয়ার হোসেন। একইসঙ্গে পেটে ছুরিকাঘাত করেন তার স্বামী। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে মুকসুদপুর ইউনিয়নের খরিয়া এলাকার জিকির কারিগরের ছেলে আনোয়ার হোসেনের (৩৭) সঙ্গে খাসিরটেক এলাকার আসেছ চৌকিদারের মেয়ে পপির আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাস আগে ৫ মাসের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন পপি।  স্বজনদের দাবি, একাধিকবার পপিকে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে বললেও তিনি রাজি হননি। এর জেরে গত ১৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে আসেন আনোয়ার। এসময় পপি তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুকে স্বামী আনোয়ারের কোলে দিয়ে পানি আনতে যাচ্ছিলো। এ সময় পেছন থেকে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী আনোয়ার। এরপর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে পপির পেটে একাধিকবার আঘাত করেন আনোয়ার। পপির ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান স্বামী। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় পপিকে উদ্ধার করে প্রথমে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান চিকিৎসক। সেখানে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে মারা যান পপি আক্তার। এ বিষয়ে পপি আক্তারের বোন স্বর্ণা ও চাচা দানেছ চৌকিদার জানান, স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে পপি মারা গেছেন। আমরা ওই খুনি আনোয়ারের বিচার চাই।  দোহার থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান কালবেলাকে জানান, এ ঘটনার পরই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ‘খ’ ধারায় মামলা হয়েছিলো। মামলার পরই আনোয়ার হোসেন (৪২) ও দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামে দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মারা যাওয়ার পর আজই আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ‘ক’ ধারা সংযুক্তির আবেদন করা হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি ৬ জন। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স