|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ‘গরু জাহিদ’ ও রাব্বিসহ গ্রেপ্তার ৩

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
৪৪৭ পঠিত
১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ‘গরু জাহিদ’ ও রাব্বিসহ গ্রেপ্তার ৩
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চাঁদপুর বড় স্টেশনে নারী যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ‘গরু জাহিদ’ ও রাব্বিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো ওই নারী যাত্রীর...
চাঁদপুর বড় স্টেশনে নারী যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ‘গরু জাহিদ’ ও রাব্বিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারগুলো ওই নারী যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাই করা হয়েছিল। রোববার (৮ নভেম্বর) চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মূলহোতা মো. জাহিদ হোসেন ওরফে কেলা জাহিদ (২১) এবং রাব্বি হোসেন (২৪)। তারা উভয়েই চাঁদপুর শহরের ৭ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অপরজন জাহিদ ওরফে গরু জাহিদ কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন মাইজকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।  পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৬ মিনিটে চাঁদপুর রেলওয়ে থানাধীন বড় স্টেশনের রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০১, তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২৬। পেনাল কোডের ৩৯৪ ধারায় দায়ের করা মামলাটির তদন্তের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে ছায়া তদন্তের নির্দেশনা দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূরের দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমানের সার্বিক নেতৃত্বে অভিযানে নামে ডিবির একটি দল। এসআই জিয়াউল হক জিয়া, এএসআই জহির উদ্দিনসহ ডিবি পুলিশের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত মো. জাহিদ হোসেন ওরফে কেলা জাহিদ (২১) এবং রাব্বি হোসেন (২৪) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা উভয়েই চাঁদপুর শহরের ৭ নম্বর পৌর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন মাইজকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকান্দি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে আসামির বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাহিদ ওরফে গরু জাহিদ (২১) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্ট মোবাইল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন বড় স্টেশন বরফকল ভিআইপি ঘাট এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। ঘাটের সিঁড়ির নিচে এবং নদীর পল্টুনের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে তার দেখানো ও নিজ হাতে বের করে দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর বলেন, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ৭টি স্বর্ণের চেইন (প্রায় ৭ ভরি), ৫টি ফিঙার রিং (প্রায় ৩ ভরি), চার জোড়া কানের দুল (প্রায় আড়াই ভরি), দুটি হাতের রুলি (প্রায় ২ ভরি), একটি গলার হার (প্রায় আড়াই ভরি) এবং একটি হাতের ব্রেসলেট (প্রায় ১ ভরি)। সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের এ অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আর কোনো আসামি নেই। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স